যৌবনে বলিউডে পা রাখলেও প্রথমদিকে তিনি খুব একটা সাফল্যের মুখ দেখেননি। বড় পর্দায় অনেকেই তাঁকে শনাক্ত করতে পারেননি, ততটা জনপ্রিয়তাও পাননি। কিন্তু ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে রহমান ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সেই ছবির পর থেকেই বহু দর্শকের চোখে তিনি হয়ে ওঠেন এক বিশেষ ব্যক্তিত্ব, অনেকে তো তাঁকে ‘লেজেন্ড’-এর মর্যাদাও দিতে শুরু করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক নামজাদা অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। সুচিত্রা সেনের নাতনি রিয়া সেন থেকে শুরু করে ঐশ্বর্যা রাই কিংবা করিশ্মা কপূর—সবাইকেই কখনও না কখনও তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এদের মধ্যে কোনও সম্পর্কই স্থায়ী হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটাই ভেঙে গিয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!অক্ষয় খন্না (Akshaye Khanna) নিজেও স্বীকার করেন, বিয়ে বা পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিকতা তাঁর কখনোই ছিল না। বর্তমানে তিনি পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়সে দাঁড়িয়ে, তবু বিবাহ সম্পর্কে তাঁর মত একই রকম দৃঢ়। তাঁর কথায়, তিনি কোনও ভাবেই মনে করেন না যে বিয়ে তাঁর জন্য উপযুক্ত পথ। অক্ষয়ের বক্তব্য, তিনি নিজের সঙ্গকেই বেশি ভালবাসেন। অনেক মানুষ যেখানে একাকীত্ব এড়িয়ে চলতে চান, সেখানে তিনি সেই একাকী সময়টুকুই উপভোগ করেন সবচেয়ে বেশি। আর তাই শুধু সমাজ বা সম্পর্কের চাপের কারণে বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত তিনি নিতে চান না। তাঁর মতে, শুধু মাত্র একটি সম্পর্ক রক্ষা বা সামাজিক দায়বদ্ধতার খাতিরে জীবনে নতুন একজনের দায়িত্ব নেওয়া ঠিক নয়। নিজের দায়িত্বই তিনি যথেষ্ট স্বচ্ছন্দে পালন করতে পারছেন—এটাই তাঁর শান্তির জায়গা।
অক্ষয় আরও জানিয়েছেন, তিনি স্বভাবতই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে ভয় পান। কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাঁর এই মানসিকতা আগে এমন ছিল না। সময়ের সঙ্গে বদলে তিনি ধীরে ধীরে নিজের নিঃসঙ্গতাকেই ভালোবাসতে শিখেছেন, নিজের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তাঁর সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, বিবাহিত জীবনে নাকি তাঁর স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যেতে পারে। যদি তাঁর জীবন কারও প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, সেটি তিনি কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারবেন বলে মনে করেন না। এই অনিশ্চয়তাই তাঁকে বিয়ের গণ্ডিতে বাঁধতে দেয় না। তাই এখনো নিজের সিদ্ধান্তে অটল—বিয়ে তাঁর জীবনের পথ নয়।