মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

ডুয়ার্সের প্রাণকেন্দ্রে হারিয়ে যাওয়ার ডাক!

পশ্চিমবঙ্গের বৈচিত্র্যময় পর্যটন মানচিত্রে ডুয়ার্স এক অনন্য নাম, আর সেই ডুয়ার্স ভ্রমণের প্রাণকেন্দ্র বা জংশন হলো চালসা (Chalsa)। অধিকাংশ ভ্রমণপিপাসু চালসাকে কেবল একটি পথচলতি চৌমাথা হিসেবে দেখলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির এক অপূর্ব মিশেল।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

যাতায়াত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: চালসা একটি শান্ত ও ছোট জনপদ হলেও যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার ছবির মতো সুন্দর রেলস্টেশনে এখন ভিস্তা ডোম ট্যুরিস্ট ট্রেনও থামে। স্টেশনের নির্জনতা এবং পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি নদী ‘কুর্তি’র মায়াবী রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। যদিও কুর্তি নদী মূর্তি নদীর মতো অতটা প্রচার পায়নি, কিন্তু এর নির্জন সৌন্দর্য অতুলনীয়। এছাড়া প্রতি মঙ্গলবার মঙ্গলাবাড়িতে বসে ডুয়ার্সের ঐতিহ্যবাহী হাট, যা স্থানীয় জনজীবন ও লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল।

সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার: চালসার প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে আছে তার ইতিহাসের পাতায়। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘শালবনী ক্লাব’ এখানকার এক বড় সম্পদ। ১৯৪৮ সালে এখানে একটি ‘ঘূর্ণায়মান মঞ্চ’ নির্মিত হয়েছিল, যা সেই সময়ে কলকাতার বাইরে বিরল ছিল। আজ সেই যন্ত্র অকেজো হয়ে থাকলেও মঞ্চটি আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ক্লাবের পাশেই রয়েছে এক প্রাচীন গ্রন্থাগার। যথাযথ সরকারি উদ্যোগ ও সংস্কারের মাধ্যমে এই নাট্যমঞ্চ ও পাঠাগারটিকে উত্তরবঙ্গের একটি প্রধান গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।

ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দু: চালসাকে কেন্দ্র করে এক দিনের সফরেই ডুয়ার্সের অধিকাংশ জনপ্রিয় জায়গা ঘুরে দেখা যায়। এখান থেকে অনায়াসেই যাওয়া যায় সামসিং, সুন্তালেখোলা, ঝালং-বিন্দু কিংবা পাহাড়ি গ্রাম তোদে-তাংতা। জঙ্গলপ্রেমীদের জন্য গোরুমারা ও চাপরামারি ন্যাশনাল পার্কের সাফারির সবচেয়ে সুবিধাজনক ঠিকানা হলো এই চালসা। এমনকি সকালে বেরিয়ে জলদাপাড়া বা লাভা-রিশপ ঘুরে বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসা সম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়, চালসাকে কেবল হাইওয়ের সংযোগস্থল হিসেবে না দেখে একটি ‘সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এখানকার পুরোনো বাংলো এবং ঐতিহ্যবাহী শালবনী ক্লাবের সংস্কার করা হলে এটি ডুয়ার্সের পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। তাই প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন উপভোগ করতে চাইলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হোক চালসা।

You cannot copy content of this page