শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

গণেশের পেট ফেটে যাওয়া রুখল এক কালনাগিনী

হিন্দুধর্মে সিদ্ধিদাতা গণেশ (Ganesh)এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত। দেবাদিদেব মহেশ্বর ও দেবী দুর্গার বিধান অনুযায়ী, তাঁর পূজা ছাড়া কোনো শুভ কাজ সম্পন্ন হতে পারে না। তিনি সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও সর্ববিঘ্ননাশক হিসেবে আপামর জনসাধারণের অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর মাহাত্ম্যের কারণেই প্রতিটি ঘরে গণপতির বিভিন্ন নামে শিশুদের নামকরণ করার চল রয়েছে। যেমন—অনব (বিশাল হৃদয়), অথর্ব (জ্ঞান), দেবব্রত, কারুণ্য বা মৃত্যুঞ্জয়ের মতো অর্থবহ নামগুলো আধুনিক সমাজেও জনপ্রিয়। গণেশের শারীরিক গঠন ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে ‘বিকট’ বা ‘গজপতি’র মতো নামও প্রচলিত।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গণেশের জন্ম নিয়ে পুরাণভেদে নানা কৌতূহল উদ্দীপক কাহিনি রয়েছে:

  • শিবপুরাণ: পার্বতী তাঁর গায়ের মাটি দিয়ে একটি পুত্রমূর্তি নির্মাণ করে তাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন। শিবের সাথে যুদ্ধে সেই কুমারের মস্তক ছিন্ন হলে, পরে উত্তর দিকে মাথা করে শুয়ে থাকা একটি হাতির মুণ্ড এনে তাঁকে পুনর্জীবিত করা হয়।

  • স্কন্দপুরাণ: এখানে একাধিক মত পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে সিন্দুর নামক দৈত্য গর্ভস্থ গণেশের মাথা কেটে ফেলেছিল, আবার কোথাও পার্বতীর গায়ের ময়লা বা কাপড় থেকে তাঁর সৃষ্টির কথা উল্লেখ আছে। কার্তিকেয় (স্কন্দ) কাদা না পেয়ে হাতির মাথা এনে তাঁর দেহ জুড়ে দিয়েছিলেন বলেও বর্ণিত।

  • ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ: পার্বতী কৃষ্ণের মতো পুত্র চাইলে শ্রীকৃষ্ণই শিশুরূপে আবির্ভূত হন। কিন্তু শনিদেবের কুদৃষ্টিতে শিশুর মস্তক ছিন্ন হয়ে বৈকুণ্ঠে চলে যায়। তখন বিষ্ণু একটি হাতির মাথা এনে তাঁকে জীবনদান করেন।

  • অন্যান্য মত: বরাহপুরাণ মতে, শিবের হাস্যমুখ থেকে তাঁর জন্ম। আবার মৎস্যপুরাণ অনুযায়ী, পার্বতীর প্রসাধন চূর্ণ গঙ্গার জলে পড়ে বিশালাকায় গজাননের সৃষ্টি হয়।

ভাদ্র মাসের শুক্লাচতুর্থী তিথিটি ‘গণেশ চতুর্থী’ বা তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটিকে ঘিরে একটি প্রচলিত লোককথা হলো—একবার পেটভরে মোদক খেয়ে ফেরার পথে গণেশ পড়ে যান এবং তা দেখে চন্দ্র উপহাস করেন। ক্রুদ্ধ গণেশ তখন অভিশাপ দেন যে, চতুর্থীর দিন কেউ চাঁদ দেখলে কলঙ্কিত হবে। মোদকপ্রিয়, গজমুণ্ডধারী এই দেবতা তাঁর জ্ঞান ও শক্তির গুণে আজ ভারতের প্রতিটি ঘরে ঘরে পূজিত ও সমাদৃত।

You cannot copy content of this page