শীতের হিমেল সন্ধ্যা মানেই ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপ আর তার সাথে মুখরোচক কোনো জলখাবারের (Namkeen) আমেজ। ব্যস্ত জীবনযাত্রার ভিড়ে আমরা অনেক সময় বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, কিন্তু ছোটবেলার সেই চেনা স্বাদের ঘরোয়া নাস্তা বা ট্র্যাডিশনাল স্ন্যাকসের আবেদন আজও অমলিন। এই শীতে সেই নস্টালজিয়াকে সঙ্গী করেই ঘরে ঘরে আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মুচমুচে খাস্তা নিমকি পুরি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নিমকি কেবল একটি খাবার নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই চা-চক্রের সঙ্গী হিসেবে নিমকির কদর রয়েছে। মূলত ময়দা, নুন এবং কালো জিরের মিশ্রণে তৈরি এই পদটি দীর্ঘ সময় ধরে রসনাতৃপ্তি মিটিয়ে আসছে। নিমকি তৈরির আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ‘ময়ানে’। সঠিক পরিমাণে তেল বা ঘি ব্যবহার করলে এটি যেমন খাস্তা হয়, তেমনই এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। শীতের সন্ধ্যায় যখন বাইরে কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া, তখন এই মুচমুচে স্ন্যাকস আড্ডায় বাড়তি উষ্ণতা যোগ করে।
বর্তমান সময়ে মানুষের হাতে সময়ের অভাব থাকলেও নিমকি পুরি তৈরির পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং কম সময়সাপেক্ষ। অল্প কয়েকটি সাধারণ ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই এটি ঝটপট বানিয়ে ফেলা যায়। তাই হঠাৎ আসা অতিথি আপ্যায়ন হোক বা বিকেলের হালকা খিদে—নিমকি পুরি হতে পারে এক আদর্শ সমাধান। এছাড়া বাইরের কেনা খাবারের তুলনায় বাড়িতে বানানো নিমকি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এখানে তেলের গুণমান থেকে শুরু করে মশলার পরিমাণ—সবই থাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে, যা শরীরের জন্য নিরাপদ।
নিমকির সাথে জড়িয়ে থাকে শৈশবের অনেক অমলিন স্মৃতি। উৎসবের মরসুম বা ছুটির বিকেলে বড়দের হাতের তৈরি সেই ঘরোয়া খাবারের স্বাদ আজও আমাদের নমনীয় করে তোলে। আধুনিক হেঁশেলেও সেই ঐতিহ্যের ছোঁয়া ফিরিয়ে আনছেন আজকের প্রজন্ম। সব মিলিয়ে, শীতের সন্ধ্যার আড্ডাকে প্রাণবন্ত করতে নিমকি পুরি কেবল একটি মুচমুচে খাবার নয়, বরং এটি পারিবারিক বন্ধন এবং আন্তরিকতার এক সুন্দর প্রতীক।