মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে নিষিদ্ধপল্লি

Red-light district

নিষিদ্ধপল্লিতে Red-light district বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর তথ্য সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে । এতদিন যা ছিল গুজব বা গুঞ্জন, এবার সেটাই প্রমাণিত । পুলিশের হাতে টাটকা প্রমাণ কুলটির নিষিদ্ধপল্লি । স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি । কিন্তু এরই পাশাপাশি অন্য আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে । প্রশ্ন উঠছে, যাদের নিয়মিত নজর রাখার কথা, অর্থাৎ যৌনপল্লির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে শুরু করে শাসকদলের নেতা কিংবা পুলিশ, তারা কী করে ? বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মহিলার জাল নথি ধরা না-পড়লে কি জানা যেত, ভেতরের এই ঘটনা ? তবে কি গোড়ায় গলদ ? নজরেই ঢিলেমি । এই ঘটনার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন উঠে এল । দু’দিন আগেই সালানপুরের দেন্দুয়া এলাকার বাসিন্দা ছোটন সেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সালানপুর থানার পুলিশ ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এক মহিলা যিনি যৌনপল্লিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁর এদেশের নাগরিকত্বের সমস্ত নথি ছোটন ভুয়ো পদ্ধতিতে বানিয়ে দিয়েছিলেন । ওই মহিলা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতেই ভুয়ো নথির বিষয়টি সামনে আসে । মহিলা চম্পট দিয়েছেন । ধরা পড়েছেন ছোটন সেন । পুলিশ তদন্ত করে দেখছে শুধু ওই মহিলা, নাকি এর সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশি মহিলার নথিপত্র তৈরি করেছিলেন এই ছোটন । রাজ্যে এসআইআর শুরু হতেই যখন হাজার হাজার নাম বাদ পড়তে শুরু করে, তখনই বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল প্রচুর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এ রাজ্যে ঢুকে বসেছিল । যারা ভুয়ো ভোটার ছিল, তারা নথিপত্রের ভয়ে এখন পালাচ্ছে । রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে তোলপাড় শুরু হয় আসানসোলের কুলটির লছিপুর ও চপকা যৌনপল্লিতেও ।

পরিসংখ্যান বলছে, কুলটির নিষিদ্ধপল্লি এলাকার চারটি বুথের খসড়া তালিকায় দেখা যায় প্রায় 40 শতাংশ নামে গরমিল । ফর্ম জমা না-দিয়েই উধাও অনেকে । বুথ নম্বর – 113, 114, 115 ও 116-তে মোট ভোটার ছিল 3 হাজার 627। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সরাসরি নাম বাদ হয়েছে 742 জনের । যার মধ্যে মৃত ভোটার 139 জন, অন্যত্র চলে গেছেন বা শিফটেড 69 জন । অন্যদিকে এই চারটি বুথে 534 জন ভোটারের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি । অনেকে এন্যুমারেশন ফর্ম তুলেও আর জমা দেয়নি । 2002 এর তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং করা যায়নি, এমন ভোটারের সংখ্যাও 684 । অনেকেরই বাবার নাম মিলছে না । মিলছে না সঠিক তথ্য । হিয়ারিংয়ে তাদের ডাকা হলেও বহু মহিলা যাননি । এই ঘটনার পরেই বিরোধী দলের নেতারা হইচই করতে শুরু করেন ।

তাঁরা বাংলাদেশ তত্ত্বকেই প্রতিষ্ঠা করবার চেষ্টা করে । যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নিষিদ্ধপল্লি এলাকায় কোনও বাংলাদেশি নেই । কিন্তু গত পরশুর ঘটনা সামনে আসতেই আবারও হইচই । প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এভাবেই বাংলাদেশিদের ভুয়ো ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে তাদেরকে এদেশের নাগরিক করে দেওয়া হচ্ছে ! বিজেপির কুলটি অঞ্চলের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার অভিজিৎ আচার্য চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন । তিনি দাবি করেন, “তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলররা 10 হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারী মহিলাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ অন্যান্য নথিপত্র বানিয়ে দেন ।” কয়েক বছর আগে কুলটিতে এমন একটি ঘটনা ধরাও পড়েছিল । সেই সময় নাম উঠে এসেছিল প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মীর হাসিমের ।

বিজেপি নেতা অভিজিৎ আচার্যর দাবি, “এই ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দেখানো চলবে না । এর থেকে প্রমাণ হচ্ছে যে, বাংলাদেশিরা এ রাজ্যে আসছে । এ রাজ্য কার্যত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে । রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে দুর্বার মহিলা সমিতি ৷ তারা যৌনপল্লিতে নতুন কোনও মহিলা এলে তাঁর বয়সের সার্টিফিকেট দেখার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে ৷ পাশাপাশি তার কাউন্সেলিং করা হয় এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় ৷ তারপরে যৌনপল্লিতে যৌন ব্যবসা করার জন্য তা ছাড়পত্র মেলে ৷ এটাই যদি নিয়ম হয়, তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা কী করে যৌনপল্লির মধ্যে ঢুকে পড়ছে ! তবে কি নজরদারিতেই অভাব রয়েছে ? এমন প্রশ্নই উঠে আসছে ৷ কুলটির যৌনপল্লির দুর্বার মহিলা সমিতির মেন্টর রবি ঘোষ জানাচ্ছেন, “নিয়মমাফিক আমরা সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষা করার পরেই মেয়েদের যৌনপল্লিতে স্থান দিই ৷ কিন্তু আমরা যেখানে অপারগ সেটা হচ্ছে নথিপত্র আসল না নকল তা দেখার জন্য কোনও প্রশিক্ষণ আমাদের নেই কিংবা কোনও পোর্টালও আমাদের কাছে নেই ৷ যার ফলে কোনও মহিলা এসে আমাদের নথিপত্র দেখালে সেই নথিপত্র আসল না নকল তো আমরা বুঝব কী করে !

পাশাপাশি কোনও মহিলা যদি শহর থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে এখানে আসেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কারও বোঝার ক্ষমতা নেই যে তিনি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী কি না ৷ কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে তাও তাঁর অজানা বলে জানান রবি ঘোষ ৷ যৌনপল্লিতে কোন মহিলা বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী তা বোঝার জন্য সত্যিই কোনও সঠিক অর্থে পদ্ধতি নেই । স্থানীয় তৃণমূল নেতা পূর্ণেন্দু রায় ওরফে বাচ্চু জানালেন, “সবাই অভিযোগ তুলতে পারেন । কিন্তু আসল জায়গাটা কেউ ভাবছেন না । এই যে ‘পাড়া’গুলি থাকে, সেখানে মেয়েরা ক্রমাগত আসা-যাওয়া করে । আজ যে মেয়ে আসানসোলে, কাল তিনি চলে যান বিহারের পাটনায়, পরশু গুজরাতে বা উত্তরপ্রদেশে । এভাবে তারা সব সময় আসা-যাওয়া করে । ফলে কোন বাড়িতে কোন মেয়ে আসছে, কোন মেয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার এরকম মেয়েদের মাঝে তা খুঁজে পাওয়া যায় না । আর যৌনপল্লির ভেতরে একটা অন্য পরিবেশ থাকে । ফলে সে ক্ষেত্রেও সবার উপর ওইভাবে নজরদারি চালানো যায় না । কারণ মহিলারা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে চান ।” পূর্ণেন্দু রায়ের দাবি, “যদি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে ঢোকে, তার প্রধান দায় বিএসএফের । কোনও না কোনও জায়গায় ফাঁকফোকর গলেই তো তারা এই রাজ্যে আসছে । সীমান্তে সেই জায়গাগুলোকে বন্ধ করার চেষ্টা কেন হচ্ছে না ? অর্থাৎ সেখানেও দুর্নীতি রয়েছে । আর এই দুর্নীতি একেবারেই কেন্দ্রের দুর্নীতি । ফলে এই সমস্যা থেকে সমাধান তখনই পাওয়া যাবে যখন সীমান্ত একেবারে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া যাবে । নইলে অভাব থেকে মেয়েরা আসবেই । তাদের নথিপত্র তৈরি হবে । তারা কে বাংলাদেশি আর কে এদেশি সেটা বোঝার উপায় থাকবে কী করে ?”

You cannot copy content of this page