মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ভ্যাকসিন

ভারতে স্তন ক্যানসারের মতোই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে জরায়ুমুখের ক্যানসার বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসার (Cervical cancer)। এই মারণ রোগের প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV)। শরীরে এই ভাইরাসের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি জরায়ুমুখের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটায়। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো বিশেষ উপসর্গ না থাকায় রোগটি শনাক্ত করতে দেরি হয়ে যায়, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, সঠিক সময়ে টিকাকরণ এবং সচেতনতাই পারে এই ঝুঁকি রুখে দিতে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

টিকার ভূমিকা ও কার্যকারিতা: ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, এইচপিভি (HPV) টিকাই হলো এই ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। এই টিকা শরীরকে আগে থেকেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে, ফলে ভবিষ্যতে সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না। উল্লেখ্য যে, সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে ছেলেদেরও এই টিকা দেওয়া যেতে পারে।

সঠিক বয়স ও ডোজের নিয়ম: চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই টিকা কিশোরী বয়সেই নেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বয়সের ভিত্তিতে ডোজের নিয়মগুলো হলো:

  • ৯ থেকে ১৪ বছর বয়স: এই বয়সি মেয়েদের জন্য টিকার ২টি ডোজ যথেষ্ট।

  • ১৫ বছর বা তার বেশি বয়স: যাদের বয়স ১৫ পেরিয়ে গিয়েছে, তাদের সুরক্ষার জন্য ৩টি ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা স্ত্রীরোগ চিকিৎসকরা যখনই এই টিকার পরামর্শ দেবেন, তা অবহেলা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

খরচ ও সরকারি সুবিধা: অনেকেরই ধারণা এই টিকার খরচ অনেক বেশি। তবে স্বস্তির খবর হলো, ভারত সরকারের সাম্প্রতিকতম বাজেটে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের মতে, ১৫ বছরের কম বয়সি মেয়েদের এখন জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে এই টিকা বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জরায়ুমুখের ক্যানসার মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে নির্দিষ্ট বয়সে মেয়েদের টিকাকরণ নিশ্চিত করা প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শই পারে অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে।

You cannot copy content of this page