বেড়ে যাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একই সাথে মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে পূরণ করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারকে যদি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা যায়, তবে ডায়েট বজায় রেখেই রসনাতৃপ্তি সম্ভব। ওজন কমাতে সাহায্যকারী প্রোটিন সমৃদ্ধ মাখানা এবং প্রোবায়োটিকযুক্ত টকদই দিয়ে তৈরি দই-মাখানার পুডিং (Pudding) হতে পারে আপনার বিকেলের সেরা ডেজার্ট।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কেন এটি স্বাস্থ্যকর?
মাখানা বা পদ্মের বীজের খই শরীরের জন্য প্রোটিনের একটি দারুণ উৎস। অন্যদিকে, টকদই হজমে সাহায্য করে এবং কাঠবাদাম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। চিনির বদলে মধু ব্যবহার করায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে আপনার মিষ্টি খাওয়ার তৃষ্ণা মেটায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
২ কাপ মাখানা, ১ কাপ জল ঝরানো টকদই, দেড় টেবিল চামচ মধু, আধ কাপ ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম, আধ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো, এক চিমটি গোলমরিচ এবং সামান্য কেশর।
রান্নার সহজ পদ্ধতি
১. মাখানা প্রস্তুতি: প্রথমে একটি শুকনো কড়াইতে মাখানাগুলো মিনিট খানেক নাড়াচাড়া করে নিন। লক্ষ্য রাখবেন যাতে মচমচে হয় কিন্তু লালচে বা পুড়ে না যায়।
২. কেশর ভেজানো: সামান্য কেশর হামানদিস্তায় গুঁড়ো করে নিয়ে ইষদুষ্ণ জলে অন্তত ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে পুডিংয়ে সুন্দর রঙ ও সুগন্ধ আসবে।
৩. ব্লেন্ডিং: এবার একটি ব্লেন্ডারে শুকনো খোলায় ভাজা মাখানা, জল ঝরানো দই, কেশর ভেজানো জল, কাঠবাদামের টুকরো, এলাচ গুঁড়ো, মধু এবং সামান্য গোলমরিচ দিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ বা পেস্ট তৈরি করে নিন।
৪. জমানো ও পরিবেশন: মিশ্রণটি ছোট কাপ বা বাটিতে ঢেলে নিন। ওপরে সামান্য কাঠবাদাম কুচি ও কেশর ছড়িয়ে দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। ঘণ্টাখানেক পর ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
বিশেষ টিপস
শীতের মৌসুমে এই পুডিংয়ে ভিন্ন স্বাদ আনতে কমলালেবু ব্যবহার করতে পারেন। কমলালেবুর রস বা শাঁস মিশিয়ে দিলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকি পরিবেশনের সময় কমলালেবুর খোসাকে বাটির মতো ব্যবহার করলে তা দেখতেও চমৎকার লাগবে। এটি স্বাস্থ্যকর হলেও দিনে একবারের বেশি না খাওয়াই ভালো। যখন মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে হবে, ঠিক তখনই এটি গ্রহণ করুন।