মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

কাছেপিঠেই ঐতিহ্যের স্বাদ!

শীতের আমেজে সপ্তাহান্তের ছুটিতে ইতিহাসের টানে বেরিয়ে পড়তে চাইলে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলার তিনটি প্রাচীন মন্দির (Temple) হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য। স্থাপত্যের সৌন্দর্য আর লোকগাথার মিশেলে সমৃদ্ধ এই তিন মন্দিরের হদিস নিচে দেওয়া হলো:

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

১. হংসেশ্বরী মন্দির (হুগলি): বাঁশবেড়িয়ায় অবস্থিত এই মন্দিরের নির্মাণশৈলী বাংলার আর পাঁচটা মন্দিরের চেয়ে একদম আলাদা। ১৭৯৯ সালে রাজা নৃসিংহ দেব এই তান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত মন্দিরটি নির্মাণ শুরু করেন। ১৩টি চূড়াবিশিষ্ট এই মন্দিরের গঠনশৈলী মানুষের দেহের ষটচক্রের প্রতীক। মন্দিরের আরাধ্যা দেবী মা কালীর এক বিশেষ রূপ। মূল মন্দিরের পাশেই রয়েছে টেরাকোটার কাজ করা অপূর্ব ‘অনন্ত বাসুদেব মন্দির’।

  • যাতায়াত ও ভ্রমণ: হাওড়া-কাটোয়া লাইনে বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে নেমে টোটো বা অটোয় যাওয়া যায়। মন্দির দর্শনের পাশাপাশি কাছেই ব্যান্ডেল চার্চ, ইমামবাড়া ও জাফর খাঁ গাজির দরগা ঘুরে নেওয়া যেতে পারে।

২. শ্যামচাঁদ মন্দির (নদিয়া): চৈতন্যতীর্থ শান্তিপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন হলো ১৭২৬ সালে নির্মিত আটচালা স্থাপত্যের শ্যামচাঁদ মন্দির। ব্যবসায়ী রামগোপাল খান চৌধুরীর তৈরি এই মন্দিরটি ১১০ ফুট উঁচু। মন্দিরের গায়ে নিপুণ টেরাকোটার কারুকাজে পৌরাণিক কাহিনী খোদাই করা আছে। গর্ভগৃহে রয়েছে কষ্টিপাথরের কৃষ্ণ ও অষ্টধাতুর রাধিকা মূর্তি।

  • যাতায়াত ও ভ্রমণ: শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুর লোকাল ধরে পৌঁছে যাওয়া যায়। মন্দির দেখার পর গঙ্গার ঘাট, তোপখানা মসজিদ এবং শান্তিপুরের বিখ্যাত তাঁতপল্লি ঘুরে দেখা এক দারুণ অভিজ্ঞতা হবে।

৩. নাচিন্দা মায়ের মন্দির (পূর্ব মেদিনীপুর): দিঘা বা মন্দারমণি যাওয়ার পথে কাঁথির কাছেই অবস্থিত এই জাগ্রত মন্দির। লোককথা অনুযায়ী, এক বৃদ্ধা দেবী শীতলার স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে পুজো শুরু করেছিলেন। বর্তমান মন্দিরটি আধুনিক ও বেশ সুসজ্জিত। এখানে চণ্ডী, শীতলা, কালী ও রক্তাবতীর আরাধনা করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেবী আজও এই চত্বরে বিভিন্ন রূপে বিচরণ করেন।

  • যাতায়াত ও ভ্রমণ: কলকাতা থেকে দিঘাগামী বাসে সরাসরি নাচিন্দায় নামা যায়। অথবা ট্রেনে কাঁথি নেমে অটোয় যাওয়া সম্ভব। সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে বা ফেরার সময় এটি একটি চমৎকার বিরতি হতে পারে।

এই তিনটি গন্তব্যই যেমন আধ্যাত্মিক শান্তিতে ভরপুর, তেমনি বাংলার স্থাপত্য ও ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।

You cannot copy content of this page