বছর খানেক ধরে ভারতীয় বিনোদন জগতে পাকিস্তানি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন ফিল্ম সংগঠন। তবে অতীতে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘সর্দারজি থ্রি’-তে পাকিস্তানি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার কারণে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। এই ঘটনা পঁচিশ বছরের মধ্যভাগের। পহেলগাঁও হামলার পর থেকে আবারও প্রতিবেশী দেশের শিল্পীদের নিয়ে বলিউডে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খবর পাওয়া গেছে যে, আলিয়া ভাট( alia bhatt)পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। তবে এই সফর আসলে রাজনৈতিক বা কোনো বিশেষ মিশনের কারণে নয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সম্প্রতি আলিয়া রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যোগ দেওয়ার জন্য জেদ্দায় গিয়েছেন। বলিউডের ময়দানে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করার পর থেকেই আলিয়া ভাটকে ‘নেপোটিজম’-এর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমী বিনোদন জগতে ‘হার্ট অফ স্টোন’ সিনেমার মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। করণ জোহরের ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’-এর পর থেকেই আলিয়া বলিউডের অন্যতম সেরা নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দ্বিতীয় সিনেমা ‘হাইওয়ে’ থেকে শুরু করে এক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছেন। ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চের স্বীকৃতি—সবকিছুই আলিয়ার হাতে রয়েছে। বলিউডের পাশাপাশি পশ্চিমী বিনোদন জগতে তাঁর ভক্তসংখ্যাও ক্রমবর্ধমান।
মধ্যপ্রাচ্যের চলচ্চিত্র উৎসবে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক আলিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি কি কখনও পাকিস্তানে যাবেন?” সরাসরি উত্তর না দিলেও আলিয়া কোনো বিরোধিতা করেননি। তিনি বলেন, “কাজের জন্য আমাকে যেখানে যেতে হবে, সেখানেই যাব।” আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ অনুভব করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, “একদমই নয়, বরং এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ভবিষ্যতে সিনেমার কাজের জন্য আলিয়া পাকিস্তান সফরে যেতে প্রস্তুত।
ফলে, এই সফর কোনো রাজনৈতিক বা বিতর্কিত প্রেক্ষাপটে নয়, বরং কাজের প্রয়োজনেই আলিয়া ভাটের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে হচ্ছে। এভাবেই বলিউডের ‘ক্যুইন’ আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজের উপস্থিতি শক্তিশালী করে চলেছেন, যেখানে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে গর্ব অনুভব করছেন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ স্থাপন করছেন