নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত সিরিজ ‘তস্করি : দ্য স্মাগলারস ওয়েব’ ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই সিরিজে কাস্টমস অফিসার অর্জুন মীনার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন ইমরান হাশমি(Emraan Hashmi)। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিরিজ, নিজের চরিত্র এবং বদলে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মুক্তির পর থেকেই সিরিজটি প্রশংসা কুড়োচ্ছে। ইমরানের কথায়, এই চরিত্রটি তাঁর কেরিয়ারে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। হিন্দি ছবিতে কাস্টমস অফিসারকে কেন্দ্র করে খুব কম কাজ হয়েছে, ফলে চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মত করে তোলাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, নীরজ পাণ্ডে এবং তাঁর টিম প্রায় দেড় বছর ধরে গবেষণা করেছেন। বহু বাস্তব কাস্টমস অফিসারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ইমরান নিজেও ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন অফিসারের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁদের কাজের ধরন, শারীরিক ভাষা, কথা বলার ভঙ্গি এবং ডিউটির সময়কার শৃঙ্খলা কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করেন। এমনকি বিমানবন্দরে যাতায়াতের সময়ও তিনি সচেতনভাবে এসব বিষয় লক্ষ্য করতেন, যাতে চরিত্রের গভীরে পৌঁছনো যায়।
নীরজ পাণ্ডের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন ইমরান। তাঁর মতে, নীরজের সংলাপ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট—অপ্রয়োজনীয় কিছুই থাকে না। শ্যুটিংয়ের সময় যে দৃশ্য ধারণ করা হয়, সেটাই চূড়ান্ত আকারে পর্দায় আসে। পরিচালকের মাথায় এডিটিংয়ের ছক আগেই পরিষ্কার থাকে, ফলে সেটে কাজ করাও সহজ হয়। এই স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলাই নীরজ পাণ্ডের কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তিনি।
ওটিটি এবং বক্স অফিস প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন ইমরান। তাঁর মতে, দর্শকের অভ্যাস বদলে গিয়েছে। কোভিডের পর থেকে থিয়েটারে সিনেমা দেখার প্রবণতা কমেছে। টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ওটিটিতে ছবি চলে আসার কারণে পরিবার নিয়ে হলে যাওয়ার আগ্রহ কমছে।
এক সময় ‘টাইপকাস্ট’ হওয়ার অভিযোগ থাকলেও এখন সেই ধারণা ভাঙতে পেরেছেন ইমরান। তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলানো জরুরি। দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন ও পরিণত। তাই অভিনেতা হিসেবে নিজেকে বারবার নতুনভাবে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য।