প্রথম বিয়ের আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন না হতেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করায় তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবি শেয়ার করেন তিনি। সেই ছবিতেই দেখা যায়, বেনারসের গঙ্গার ঘাটে ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন হিরণ। তাঁর পাশে ছিলেন পেশায় মডেল ঋত্বিকা গিরি। ছবির ক্যাপশনে অভিনেতা লেখেন, ‘নমঃ পার্বতী পতায়ে হর হর মহাদেব।’ এই পোস্ট ঘিরেই রাজনীতি ও বিনোদন মহলে শুরু হয় প্রবল চর্চা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঠিক এই সময়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, হিরণের সঙ্গে তাঁর আইনি বিচ্ছেদ এখনও হয়নি। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি দেখেই তিনি হতবাক। অনিন্দিতার বক্তব্য অনুযায়ী, হিরণের আসল নাম হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় ২৫ বছর। ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স বর্তমানে উনিশ বছর। অনিন্দিতা জানান, সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন মেয়ের কথা ভেবে, কারণ ঋত্বিকা বয়সে তাঁদের মেয়ের থেকে মাত্র দু’বছরের বড়।
তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগেও হিরণের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। যেখানে আইনি বিচ্ছেদই হয়নি, সেখানে কীভাবে দ্বিতীয়বার বিয়ে করা সম্ভব—এই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। আপাতত কোনও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেও জানান অনিন্দিতা, তবে গোটা বিষয়টিকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ফলে খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে। প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়জগৎ থেকে দূরে রয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতেই মনোযোগী। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বিয়ের ছবিগুলি আদৌ বাস্তব নাকি কোনও প্রচারমূলক রিল বা পরিকল্পিত ছবি—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। সব মিলিয়ে, হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে এখন শুধুই ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।