নতুন বছরে নিজের ঘর সাজানোর পাশাপাশি বাড়ির খুদে সদস্যটির ঘরটিকেও (Kid’s Room) করে তুলুন আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত। শিশুর ঘরের অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার মানসিক বিকাশেও বড় ভূমিকা পালন করে। তাই ঘর সাজানোর সময় আপনার নিজস্ব পছন্দের চেয়ে শিশুর ভালো লাগা ও বয়সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!রঙের জাদু ও দেওয়ালের সাজ: শিশুর ঘরের জন্য রঙের নির্বাচন হওয়া উচিত উজ্জ্বল ও আনন্দদায়ক। বসার ঘর বা শোয়ার ঘরে আমরা সাধারণত হালকা রঙ পছন্দ করলেও, শিশুদের জন্য রঙচঙে এবং কোনো বিশেষ থিম (যেমন জঙ্গল, কার্টুন বা মহাকাশ) অনুযায়ী দেওয়াল রাঙানো ভালো। একটি দেওয়ালে গাঢ় বা উজ্জ্বল রঙ করে বাকি তিন দেওয়ালে ওই রঙেরই হালকা শেড ব্যবহার করলে ঘরে একটি আধুনিক ও গ্লসি লুক আসে।
আসবাব ও মেঝের বিন্যাস: শিশুরা মেঝেতে খেলে বেড়াতে ভালোবাসে, তাই ঘরের মাঝখানের অংশ যতটা সম্ভব ফাঁকা রাখা প্রয়োজন। আসবাবপত্র নির্বাচনে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন; আলমারি বা তাকগুলো দেওয়ালের সাথে ফিট করা যায় এমন হলে মেঝের পরিসর বাড়ে। ঘরের এক কোণে একটি পড়াশোনার টেবিল রাখুন, যার ওপরের তাকে বই গুছিয়ে রাখা যায়। টেবিলে কম্পিউটার, কলমদানির পাশাপাশি একটি ছোট সবুজ চারাগাছ রাখতে পারেন, যা শিশুর মনে সতেজতা আনবে।
সিলিং ও আলোর কারসাজি: ঘরের সিলিং বা ছাদটিকে বানিয়ে ফেলুন এক টুকরো আকাশ। রাতের অন্ধকারে জ্বলে ওঠে এমন ‘গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক’ স্টিকার (চাঁদ, তারা, নক্ষত্র) লাগিয়ে দিন ছাদে। এতে রাতে ঘুমানোর সময় শিশু এক মায়াবী পরিবেশ পাবে। এছাড়া ঘরে আলোর ব্যবস্থা হতে হবে পর্যাপ্ত। সিলিংয়ে মৃদু স্নিগ্ধ আলোর পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘরের প্রতিটি কোণ উজ্জ্বল থাকে, যাতে সে যেখানেই বই নিয়ে বসুক না কেন, চোখের ওপর চাপ না পড়ে।
শৌখিন কোণ ও স্টিকার: দেওয়ালে সুদৃশ্য কর্নার শেলফ বা তাক রাখলে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ে এবং প্রয়োজনীয় খেলনা বা শোপিস গুছিয়ে রাখা সহজ হয়। শিশুর পছন্দের আলমারিতে রঙিন স্টিকার সেঁটে সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
পরিকল্পিত অন্দরসজ্জা শিশুর সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এই নতুন বছরে আপনার সোনামণির ঘরটিকে দিন এক নতুন রূপ, যা হবে তার স্বপ্নের পৃথিবী।