সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

ভরা মঞ্ছে দাড়িয়ে কুলদেবিকে ভুত বললেন রণবীর

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ভারত (IFFI)-এ অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সাম্প্রতিক একটি পরিবেশনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি কন্নড় ব্লকবাস্টার ‘Kantara: Chapter 1’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের অনুকরণ করেন, এবং সেই মুহূর্তে মূল ছবির অভিনেতা-পরিচালক ঋষভ শেট্টি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর এই পরিবেশনার পরই সমাজমাধ্যমে নানা সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, যে দৃশ্যটির নকল করা হয়েছে, সেটি কর্ণাটকের লোকায়ত সংস্কৃতি, বিশেষ করে ‘ভূত কোলা’ নামক আধ্যাত্মিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত; তাই মঞ্চে এমন দৃশ্য হালকাভাবে উপস্থাপন করা সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতার পরিচয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গোয়ার মঞ্চে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শিল্পীর স্বাধীনতা, শ্রদ্ধার সীমা এবং সাংস্কৃতিক প্রতীকগুলির সঠিক উপস্থাপন—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ‘কান্তারা’ শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় ছবি নয়; এটি দক্ষিণ ভারতের বহু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন। ফলে, কোনও দৃশ্যকে অভিনয়ের নামে ভুলভাবে বা অতিরঞ্জিতভাবে মঞ্চে তুলে ধরা অনেকের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।

বিতর্ক বাড়তে থাকায় রণবীর সিং দ্রুত ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি স্পষ্ট করে লেখেন, তাঁর উদ্দেশ্য কখনওই কোনও সংস্কৃতিকে অসম্মান করা বা কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া ছিল না। বরং তিনি ছবিটি এবং ঋষভ শেট্টির অভিনয়ের প্রতি তাঁর প্রশংসাই প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। নিজের বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ঋষভ শেট্টির অসাধারণ পারফরম্যান্স আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। দৃশ্যটি তিনি যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন, একজন অভিনেতা হিসেবে তা আমার কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। আমার কোনো কাজে যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকে, আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’ তিনি আরও জানান যে ‘কান্তারা’–র সাংস্কৃতিক থিম ও শিল্পভাবনার প্রতি তাঁর পূর্ণ সম্মান রয়েছে।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—জনপ্রিয় মুখদের প্রকাশ্যে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও শিল্পকর্ম বা ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কখন অনুকরণ শালীনতার সীমা অতিক্রম করে উপহাসে পৌঁছে যেতে পারে, তা বোঝা জরুরি। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিনোদন জগতে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার গুরুত্ব আরও একবার সামনে উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page