চোট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পরেই হার্দিক পান্ডিয়া( hardik Pandya)ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন। মঙ্গলবার বরোদার বরাবাটি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে জয়ের মূল অবদান রাখেন তিনিই। ম্যাচ শেষে নিজের সফল প্রত্যাবর্তনের কৃতিত্বকে ঘিরে খোলামেলা মন্তব্য করেন হার্দিক এবং বিশেষভাবে মানসিক সহায়তার জন্য বান্ধবী মাহিকা শর্মাকে ধন্যবাদ জানান। বিসিসিআই টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “চোট শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিক পরীক্ষা নেয়। তখন নানা সংশয় মনকে ঘিরে রাখে। এই সময়ে প্রিয়জনদের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাহিকার উপস্থিতি আমার জীবনে সবকিছু বদলে দিয়েছে। ওর সঙ্গে থাকার পর থেকে সবকিছু আরও সুন্দর হয়েছে। ও রঙিন করে দিয়েছে আমার জীবন।”
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!হার্দিকের ব্যক্তিগত জীবনেও গত বছর কিছু বড় পরিবর্তন আসে। নাতাশা স্ট্যানকোভিচের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, তবে তারা যৌথভাবে সন্তান অগস্ত্যকে লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেন। এই বছরের অক্টোবরে প্রথমবার হার্দিককে মাহিকার সঙ্গে দেখা যায়। পরে দু’জনের সমুদ্রসৈকতে ছুটি কাটানোর ছবিও প্রকাশ্যে আসে। মঙ্গলবার ম্যাচ চলাকালীন পাপারাৎজিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও হার্দিক বান্ধবীর পাশে থাকেন এবং পরের মুহূর্তে মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দেখান।
৩২ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মূল লক্ষ্য ছিল আরও শক্তিশালী ও দক্ষ হয়ে খেলা। কঠোর পরিশ্রম আমাকে নিজের উপর বিশ্বাস যোগিয়েছে এবং নিজের স্কিলের ওপর ভরসা জাগিয়েছে, যা সফল হওয়ার জন্য অপরিহার্য।” তিনি আরও জানান যে, বাইরের আলোচনা বা সমালোচনার প্রভাব গ্রহণ করেন না। “আমি সৎভাবে বাঁচার চেষ্টা করি, অন্যের কথায় নয়, নিজের বুদ্ধিতে সিদ্ধান্ত নিই। এখন মাঠে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই লক্ষ্য।”
২০২৪ আইপিএলে গুজরাত টাইটান্স থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে আবির্ভাবের সময়ও দর্শকদের বিদ্রুপ সহ্য করতে হয় তাকে। হার্দিক তা নিয়ে বলেন, “জীবন অনেক লেবু ছুড়ে দিয়েছে, আমি তা থেকে লেমোনেড বানিয়েছি। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা আমার ব্যাটিং দেখার জন্য অপেক্ষা করছে—তাদের এনার্জিই আমাকে চালিত করে।” ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে এমন আত্মবিশ্বাসী হার্দিকই দলের মূল শক্তি হিসেবে প্রত্যাশিত।