বাঙালির শীতকালীন ভ্রমণের তালিকায় শান্তিনিকেতন (Santiniketan) সবসময়ই ওপরের দিকে থাকে। তবে রবি ঠাকুরের কর্মভূমি যদি আপনার বারংবার ঘোরা হয়ে গিয়ে থাকে, তবে এই শীতে বীরভূমকে চিনুন একটু অন্যভাবে। শান্তিনিকেতন থেকে পানাগড়-মোড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ধরে মাত্র পৌনে দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত দুবরাজপুর, যা আপনার শীতের উইকেন্ডকে ভরিয়ে দিতে পারে ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!দুবরাজপুরের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার রহস্যময় মামা-ভাগ্নে পাহাড়। পাহাড়ের ওপর দুটি বিশাল আকৃতির পাথর যেভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে, তা বিস্ময়কর। পাহাড় ভ্রমণের পাশাপাশি দেখে নিতে পারেন রঘু ডাকাতের টেরাকোটার মন্দির এবং স্থানীয় বাজারের কাছের ১৩ চূড়া বিশিষ্ট প্রাচীন শিব মন্দির।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দুবরাজপুরের উপকণ্ঠেই রয়েছে নীল নির্জন জলাধার। বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই জলাধারের জল মেঘমুক্ত আকাশে গাঢ় নীল দেখায় বলেই এমন নাম। শীতের শুরুতে এখানে ভিড় জমায় দেশি-বিদেশি পরিযায়ী পাখিরা, যা পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওনা। আধ্যাত্মিকতায় টান থাকলে এই পথেই দেখে নিতে পারেন আলম শাহের মাজার এবং স্থানীয় রামকৃষ্ণ আশ্রম।
দুবরাজপুর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ঐতিহাসিক হেতমপুর রাজবাড়ি। এই রাজবাড়ির প্রধান ভবন ‘রঞ্জন প্যালেস’ দেখতে অনেকটা মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারির ছোট সংস্করণের মতো। রাজবাড়ির কারুকার্য এবং সংলগ্ন অষ্টকোনাকৃতি চন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের টেরাকোটার কাজ মুগ্ধ করার মতো। বহু বাংলা সিনেমার শুটিং হওয়া এই রাজবাড়ি আজও ‘হাফেজ-শেরিনার’ প্রেমগাথার স্মৃতি বহন করে চলেছে।
এছাড়া দুবরাজপুর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে ফুলবেড়ে গ্রামে রয়েছে বক্রেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরি খগেশ্বর শিব মন্দির। মন্দিরের পশ্চিম ধারের পুকুর সংস্কারের সময় মেলা কষ্টিপাথরের গোপাল মূর্তি আজও এখানে সংরক্ষিত। সব মিলিয়ে পাহাড়, জলাধার আর ইতিহাসের সাক্ষী এই দুবরাজপুরে দুটি রাত কাটালে আপনার বীরভূম ভ্রমণ এক অনন্য পূর্ণতা পাবে।





