মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

পুরীর কাছেই নদী-সাগরের মিতালি!

পুরীর (Puri) চেনা ভিড় এবং কোলাহল থেকে দূরে যারা নির্জন প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ওড়িশার নুয়ানাই হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য। বালুখণ্ড-কোনারক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই জায়গাটি একাধারে রোমাঞ্চ ও রোমান্সে ভরপুর। পুরী থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে মাত্র চল্লিশ মিনিটের পথ পেরিয়েই পৌঁছে যাওয়া যায় এক স্নিগ্ধ মায়াবী জগতে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নুয়ানাইয়ের মূল আকর্ষণ হলো এখানকার উপকূলীয় বনভূমি এবং নুয়ানাই নদীর শান্ত বয়ে চলা। ওড়িশা সরকারের ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের অধীনে এখানে তৈরি হয়েছে চমৎকার সব নেচার ক্যাম্প, যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত তাঁবুতে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ক্যাম্প চত্বরেই মাঝেমধ্যে গুটিগুটি পায়ে দেখা দিতে পারে হরিণের দল। অরণ্যপথে হাঁটলে হরিণ ছাড়াও ময়ূর বা শিয়ালের দেখা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে মাঝেমধ্যে হায়েনার আনাগোনাও শোনা যায়।

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য এখানে নুয়ানাই নদীতে কায়াকিং এবং নৌভ্রমণের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। নদী ও সমুদ্রের মোহনা পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও বেশ মনোরম। ব্যাটারিচালিত গাড়িতে চড়ে পৌঁছে যাওয়া যায় এক নিরালা সমুদ্রসৈকতে। পুরীর মতো এখানকার সমুদ্রেও ঢেউয়ের দাপট যথেষ্ট, তবে ভিড় না থাকায় সমুদ্রের প্রকৃত রূপ শান্তিতে উপভোগ করা যায়। বিকেলে ঝিনুক কুড়োনো বা সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় প্রিয়জনের হাত ধরে হাঁটা এক অনন্য অনুভূতি তৈরি করে।

পুরী বা ভুবনেশ্বর থেকে খুব সহজেই গাড়ি ভাড়া করে এখানে আসা যায়। কলকাতা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ৫১০ কিলোমিটার, যা পাড়ি দিতে ১১-১২ ঘণ্টা সময় লাগে। ট্রেনপথে পুরী পৌঁছে সেখান থেকেও মাত্র এক ঘণ্টায় নুয়ানাই পৌঁছানো সম্ভব। হাতে দুই-তিন দিন সময় থাকলে নুয়ানাইয়ের সাথে চন্দ্রভাগা সৈকত বা কোনারক সূর্য মন্দিরও ঘুরে নেওয়া যায়। তবে প্রকৃতিকে দু’চোখ ভরে দেখতে হলে এখানে অন্তত একটি রাত কাটানো জরুরি।

শীতের মিঠে রোদে হইহুল্লোড় এড়িয়ে যারা একটু ভিন্ন আমেজের ছুটি কাটাতে চান, তাঁদের জন্য বালুখণ্ড-নুয়ানাইয়ের এই পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন কেন্দ্রটি হতে পারে এই মরসুমের সেরা আবিষ্কার।

You cannot copy content of this page