ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের সময় মাত্র তিনটি বল মোকাবিলা করেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন শুভমান গিল(Shubman Gill)। সেই চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে এরপর আর দ্রুত মাঠে ফেরা সম্ভব হয়নি তার। ইনজুরির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ থেকেও সাময়িকভাবে ছিটকে যেতে হয় ভারতীয় ব্যাটারকে। তবে স্বস্তির বিষয়, যথাসময়ে সেরে ওঠায় প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফের খেলার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। কটকে ভারতের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর অবশেষে ইডেনে পাওয়া চোটের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরলেন টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!গিল জানান, তার ঘাড়ে ‘ডিস্ক বালজ’ হয়েছিল। মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা নরম জেলির মতো ডিস্ক যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তা স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। এর ফলে ঘাড়ে বা পিঠে তীব্র যন্ত্রণা, অসাড়তা কিংবা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে হার্নিয়েটেড বা স্লিপড ডিস্কও বলা হয়। এই স্নায়ুর চাপই তার ঘাড় নাড়াতে অসুবিধা তৈরি করেছিল এবং খেলার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
শুভমান বলেন, “এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে বেশ কয়েকদিন রিহ্যাব করেছি। শারীরিকভাবে যেমন, মানসিকভাবেও এখন অনেক ভালো। আমার ঘাড়ে ডিস্ক বালজ ছিল, যা স্নায়ুকে চাপে ফেলছিল। মাঠে নামার অনেক আগেই ব্যথা হচ্ছিল, কিন্তু খেলার পর ব্যথা ও টান আরও বেড়ে যায়। এমনকি আমাকে দুই দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছি।” প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, হয়তো ভুল ভঙ্গিতে ঘুমোনোর ফলেই এই ব্যথা দেখা দিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার পরই বোঝা যায় যে চোটটি আরও জটিল ছিল।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে দল হিসেবে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাওয়ায় গুরুত্ব দিচ্ছেন শুভমান। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের আগে আমরা দশটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলব। আশা করি, এই সময়ের মধ্যেই আমরা ধারাবাহিকতা খুঁজে পাব। বড় টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলই দুরন্ত ছন্দে খেলতে চায়। সেই ছন্দ পাওয়ার জন্য আমরা মরিয়া।”
যদিও চোট সারিয়ে ফেরার প্রথম ম্যাচে ব্যাটে রান পাননি গিল। নুঙ্গি এনগিডির বলে মাত্র চার রান করে আউট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরতে হয় তাকে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ধারাবাহিক ম্যাচ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার ছন্দে ফেরাটা সময়ের অপেক্ষা