রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

কলকাতায় মহীশূর রাজাদের পদচিহ্ন!

কলকাতার ভিড়ভাট্টা আর পরিচিত পর্যটন কেন্দ্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে দক্ষিণ ভারতের রাজকীয় ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন— ‘মহীশূর উদ্যান’ (Mysore Garden)। কালীঘাট মন্দিরের অদূরে আদিগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই উদ্যানটি মহীশূরের মহারাজা চামরাজেন্দ্র ওয়াদিয়ারের স্মৃতি বহন করছে। ১৮৯৪ সালে কলকাতায় এসে অকালে প্রাণ হারানো এই প্রজাহিতৈষী রাজার দাহকাজের জন্য কেওড়াতলা শ্মশানের একাংশ কিনে তৈরি করা হয়েছিল এই উদ্যান ও ঘাট।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্থাপত্য ও সৌন্দর্য: মহীশূর উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হলো এর প্রবেশপথের সাদা রঙের কারুকার্যখচিত সুউচ্চ তোরণ, যার শীর্ষে রয়েছে গজলক্ষ্মীর মূর্তি। ভিতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দক্ষিণ ভারতীয় ও কর্নাটকি স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি শ্বেতশুভ্র বিষ্ণুমন্দির। এই মন্দিরের নির্মাণশৈলী কর্নাটকের হালেবিদু শহরের প্রাচীন স্থাপত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি। উদ্যানটি বর্তমানে কলকাতা পুরসভার তত্ত্বাবধানে সযত্নে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এখানকার কেয়ারি করা বাগান, ফোয়ারা এবং সুন্দর ঘাসের গালিচা এক মুহূর্তেই আপনাকে স্নিগ্ধতা দেবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মহারাজা চামরাজেন্দ্র ওয়াদিয়ার ছিলেন একজন আধুনিক মনস্ক এবং শিক্ষানুরাগী শাসক। স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সখ্য ছিল। তৎকালীন গভর্নর জেনারেলের সাথে দেখা করতে এসে কলকাতায় মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তাঁর স্মৃতিতেই গড়ে ওঠে এই বাগান ও সংলগ্ন মন্দির চত্বর।

ভ্রমণ নির্দেশিকা:

  • সময়সূচী: উদ্যানটি প্রতিদিন সকাল ৬:৩০ থেকে বেলা ১টা এবং বিকেল ৪টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

  • কীভাবে যাবেন: কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে অটোতে বা হাওড়া স্টেশন থেকে টালিগঞ্জগামী বাসে চেপে কেওড়াতলা শ্মশান স্টপেজে নামতে হবে। সেখান থেকে হাঁটাপথেই মহীশূর উদ্যান।

শীতের বিকেলে বা ছুটির দিনে ইতিহাসের স্বাদ নিতে এবং কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে মহীশূর উদ্যান হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য। সাধারণ ভিক্টোরিয়া বা চিড়িয়াখানার বাইরে কলকাতার এই অচেনা রূপটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

You cannot copy content of this page