শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

রজঃস্বলা হন দেবী! কী এই অম্বুবাচী?

অম্বুবাচী (Ambubachi) ভারতের সনাতন ধর্মের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মাহাত্ম্যপূর্ণ উৎসব। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে কামরূপ-কামাখ্যা মন্দিরে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও সাধু-সন্তদের ঢল নামে। কিন্তু মন্দির বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন এই উন্মাদনা? এর নেপথ্যে রয়েছে সৃষ্টিতত্ত্ব এবং নারীশক্তির আরাধনার গভীর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

অম্বুবাচী শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য: ‘অম্বুবাচী’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো জলবৃদ্ধি। সনাতন শাস্ত্র অনুসারে, যখন সূর্যদেব আর্দ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করেন, তখনই বর্ষাকালের সূচনা হয়। হিন্দুধর্মে পৃথিবীকে ‘মা’ রূপে কল্পনা করা হয়। বর্ষার নতুন জলধারায় পৃথিবী যখন সিক্ত হয়, তখন তাকে দেবীর ঋতুস্রাবের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মনে করা হয়, এই তিন দিন ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী থাকেন, যা সৃষ্টি ও প্রজনন ক্ষমতার প্রতীক।

কৃষিকাজ ও শুভকাজে নিষেধ: অম্বুবাচীর সঙ্গে কৃষিকাজের এক নিবিড় যোগ রয়েছে। ভূমি বা ধরিত্রী এই সময় ঋতুমতী থাকেন বলে সম্মানার্থে তিন দিন লাঙ্গল চালানো, বীজ রোপণ বা মাটি খোঁড়ার মতো কাজ নিষিদ্ধ থাকে। এছাড়া এই সময়ে বিবাহ, উপনয়ন, অন্নপ্রাশন বা গৃহপ্রবেশের মতো কোনো শুভ কাজ সম্পন্ন করা হয় না।

কামাখ্যা মন্দিরের সঙ্গে যোগসূত্র: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর আত্মত্যাগের পর বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে দেবীর দেহ খণ্ডিত হয়। উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে সতীর দেহাংশ পড়ে ৫১টি সতীপীঠ তৈরি হয়েছিল। কামাখ্যা পাহাড়ে দেবীর ‘যোনি’ অংশটি পড়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যেহেতু এখানে সৃষ্টির উৎস পূজিত হয়, তাই অম্বুবাচীর সময় দেবী কামাখ্যা তিন দিনের জন্য রজঃস্বলা হন বলে মানা হয়। এই তিন দিন মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ থাকে এবং কোনো পুজো হয় না। চতুর্থ দিনে মন্দির খোলার পর ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের জন্য ভিড় জমান।

You cannot copy content of this page