রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানোর চাবিকাঠি আপনার হাতেই!

আধুনিক জীবনযাত্রার অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও স্ট্রোকের (Stroke) প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজিস্ট ডা. মনোজ মাহাতা স্ট্রোকের লক্ষণ, ধরন এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্ট্রোক কী ও কেন হয়?

মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে বা কোনো রক্তনালী ফেটে গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে দ্রুত মারা যেতে শুরু করে— একেই স্ট্রোক বলা হয়। স্ট্রোক প্রধানত তিন প্রকারের: ১. ইসকেমিক স্ট্রোক: রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে এই সমস্যা হয় (প্রায় ৮৭% ক্ষেত্রে)। ২. হেমোরেজিক স্ট্রোক: রক্তনালী ফেটে মস্তিষ্কে রক্তপাত হলে এটি ঘটে। ৩. মিনি স্ট্রোক (TIA): এটি সাময়িক হলেও বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা।

লক্ষণ চেনার উপায়: ‘BEFAST’ সূত্র

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জীবন-মরণ পার্থক্য গড়ে দেয়। নিচের লক্ষণগুলো মনে রাখুন:

  • B (Balance): হঠাৎ ভারসাম্যহীনতা।

  • E (Eyes): দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়া।

  • F (Face): মুখের একপাশ বেঁকে বা ঝুলে যাওয়া।

  • A (Arms): হাত বা পা অবশ বা দুর্বল হয়ে পড়া।

  • S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অসংলগ্ন কথা বলা।

  • T (Time): কোনো সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

আধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন স্ট্রোকের পর সুস্থ হওয়ার হার অনেক বেশি। ইসকেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘মেকানিক্যাল থ্রমবেক্টমি’ বা ক্লট ভাঙার ওষুধ কার্যকরী। এছাড়া গবেষকরা এখন স্টেম সেল থেরাপি এবং ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) নিয়ে কাজ করছেন, যা পক্ষাঘাতগ্রস্ত অঙ্গের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে বিশেষ সাহায্য করতে পারে।

প্রতিরোধ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং স্থূলতা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম ডায়েট মেনে চলা জরুরি। স্ট্রোকের পর সঠিক ফিজিওথেরাপি এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে পক্ষাঘাত বা কথা বলার সমস্যা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। মনে রাখবেন, স্ট্রোক প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

You cannot copy content of this page