পাহাড়ের রানু কার্শিয়াং অনেকেরই পরিচিত, কিন্তু এই পাহাড়ি শহরের অনতিদূরেই লুকিয়ে রয়েছে এক নির্জন স্বর্গরাজ্য—চিমনি (Chimney)। উত্তরবঙ্গের এই অফবিট গন্তব্যটি এখনও প্রচারের আড়ালে থাকলেও, এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য যে কোনো ভ্রমণপিপাসুর মন জয় করতে বাধ্য। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন একদম শান্তিতে কাটাতে চাইলে ‘চিমনি’ হতে পারে আপনার উইকএন্ডের সেরা ঠিকানা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রাকৃতিক শোভা ও অবস্থান: হিমালয়ের কোলে অবস্থিত চিমনি গ্রামে পৌঁছাতে হলে আপনাকে প্রথমে কার্শিয়াং থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাগোরা-তে আসতে হবে। দিলারাম হয়ে পাইন আর ওক গাছের ছায়াঘেরা রাস্তা দিয়ে এখানে আসার পথটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই জনপদটি মূলত তার ঐতিহাসিক চিমনি এবং অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এখানকার হোমস্টেগুলোর বারান্দা থেকে মেঘ-পাহাড়ের যে লুকোচুরি আর হিমালয়ের দৃশ্য দেখা যায়, তার প্রেমে না পড়ে থাকা দায়। কান পাতলে এখানে শুধু পাহাড়ি ঝোরা আর পাখির কলতান শোনা যায়।
শীতের আকর্ষণ: শীতকালে চিমনি এক অন্য রূপ ধারণ করে। এই সময় এলাকার গাছে গাছে হলদে কমলালেবু ঝুলে থাকে। পর্যটকরা চাইলে বাগান থেকে সরাসরি কমলালেবু পাড়ার অভিজ্ঞতাও নিতে পারেন। এছাড়া এখান থেকে কাছেই কমলালেবুর স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ‘সিটং’ গ্রামটিও ঘুরে আসা সম্ভব।
খরচ ও যাতায়াত: চিমনি ভ্রমণের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী বাজেট। এখানকার হোমস্টেগুলোতে থাকা-খাওয়ার খরচ মাথাপিছু গড়ে মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মতো (প্রাতঃরাশ, বিকেলের জলখাবার ও ডিনারসহ)। যাতায়াতের জন্য শিলিগুড়ি বা এনজেপি স্টেশন থেকে ছোট গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি চিমনি পৌঁছানো যায়। গাড়ির ভাড়া পড়বে আনুমানিক ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। দলবদ্ধভাবে গেলে মাথাপিছু খরচ অনেকটাই কমে যায়।
প্রতিদিনের একঘেয়ে ব্যস্ত জীবন থেকে বিরতি নিয়ে সতেজ হয়ে ফিরতে চাইলে এই শীতেই ঘুরে আসুন কার্শিয়াংয়ের এই লুকানো রত্ন থেকে। মেঘের আনাগোনা আর সবুজ পাহাড়ের স্নিগ্ধতা আপনাকে এক অপার্থিব প্রশান্তি দেবে।