বাঙালির চিরাচরিত দুপুরের খাবারে ডাল একটি অপরিহার্য পদ। বিশেষ করে গরম ভাতের সঙ্গে বিউলির ডাল আর আলু পোস্ত হলে অনেকের কাছেই তা মাছ-মাংসের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। তবে প্রতিদিনের সেই পরিচিত নিরামিষ বিউলির ডালে যদি পড়ে কুচো চিংড়ির স্বাদ, তবে রসনাতৃপ্তি পৌঁছায় এক অনন্য মাত্রায়। আমিষ বিউলির ডাল বা ‘ডাল চিংড়ি’ (Lentils and shrimp) মূলত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের এক জনপ্রিয় সাবেকি রান্না, যা এক পদেই ভাতের থালা সাবাড় করার ক্ষমতা রাখে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রয়োজনীয় উপকরণ: এই পদের প্রধান উপকরণ হলো ২০০ গ্রাম বিউলির ডাল এবং ২৫০ গ্রাম টাটকা কুচো চিংড়ি। রান্নার স্বাদ বাড়াতে প্রয়োজন পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, টম্যাটো কুচি ও কাঁচা লঙ্কা। মশলা হিসেবে লাগবে হলুদ, লঙ্কা ও ধনে গুঁড়ো। ফোড়নের জন্য শুকনো লঙ্কা ও ভাজা মৌরি এই রান্নার আসল রহস্য। নামানোর আগে স্বাদমতো নুন-চিনি এবং গরম মশলা গুঁড়ো থাকলেই কেল্লাফতে।
প্রস্তুত প্রণালী:
-
ডাল ও মাছ প্রস্তুতি: প্রথমেই বিউলির ডাল শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে ডালটি ভালো করে সেদ্ধ করে রাখুন। অন্য দিকে, কুচো চিংড়ি মাছগুলো নুন-হলুদ মাখিয়ে সর্ষের তেলে লালচে করে ভেজে তুলে নিন।
-
মশলা কষানো: কড়াইতে অবশিষ্ট তেল গরম করে তাতে শুকনো লঙ্কা ও মৌরি ফোড়ন দিন। মিষ্টি সুগন্ধ বেরোলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। পেঁয়াজ নরম হলে আদা-রসুন বাটা, টম্যাটো ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ভালো করে কষাতে থাকুন।
-
রান্নার চূড়ান্ত ধাপ: মশলা থেকে তেল আলাদা হতে শুরু করলে সব গুঁড়ো মশলা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। এরপর ভাজা চিংড়ি মাছগুলো মশলার সঙ্গে মিশিয়ে দিন। শেষে সেদ্ধ ডালটি দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে পরিমাণমতো জল ও স্বাদমতো নুন-চিনি দিন।
-
ফিনিশিং টাচ: কড়াই ঢাকা দিয়ে মাঝারি আঁচে মিনিট পনেরো রান্না করুন। ডাল ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
সর্ষের তেলের ঝাঁঝ, মৌরির সুগন্ধ আর চিংড়ি মাছের স্বাদ মিলেমিশে এই ডাল চিংড়ি তৈরি করে এক রাজকীয় আমেজ। শীতের দুপুরে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত কিংবা ডিনারে নরম রুটির সঙ্গে এই আমিষ ডাল একবার খেলে মুখে লেগে থাকবে আজীবন।