শীতের বাজারে টাটকা ফুলকপির সমারোহ থাকবেই। তবে রোজকার ডালনা বা মাছের ঝোল না খেয়ে মাঝেমধ্যে স্বাদে বদল আনতে ট্রাই করতে পারেন রাজকীয় ফুলকপির রেজ়ালা (Cauliflower Rezala)। সাধারণত রেজ়ালা আমিষ হলেও, পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরামিষ পদ্ধতিতে এটি কীভাবে বানাবেন, রইল তার সহজ রন্ধন প্রণালী।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রয়োজনীয় উপকরণ
একটি মাঝারি মাপের ফুলকপি, এক কাপ দুধ, কাজুবাদাম, চারমগজ, পোস্ত, কিশমিশ, টকদই, খোয়া ক্ষীর, ঘি ও সাদা তেল। মশলার জন্য লাগবে কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, গরম মশলা, নুন, চিনি, শুকনো লঙ্কা এবং থেঁতো করা গোলমরিচ। সবশেষে সুগন্ধের জন্য গোলাপ জল ও কেওড়া জল।
রান্নার পদ্ধতি
১. প্রস্তুতি: প্রথমে ফুলকপির ফুলগুলো মাঝারি মাপে কেটে গরম জলে দু’মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে কপির ভেতর কোনো পোকা থাকলে তা বেরিয়ে যাবে। এরপর গরম জল থেকে ছেঁকে নিয়ে কড়াইতে সাদা তেলে ফুলকপিগুলো হালকা করে ভেজে তুলে নিন।
২. মশলার মিশ্রণ: আধ ঘণ্টা আগে থেকে গরম দুধে পোস্ত, কাজু, চারমগজ ও কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর মিশ্রণটি মিক্সারে দিয়ে একটি মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন।
৩. গ্রেভি তৈরি: কড়াইতে সাদা তেল ও ঘি গরম করে শুকনো লঙ্কা ও গোলমরিচ ফোড়ন দিন। এবার সেই বাদাম ও দুধের মিশ্রণটি কড়াইতে ঢেলে ধীমে আঁচে নাড়তে থাকুন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে আগে থেকে ভেজে রাখা ফুলকপিগুলো দিয়ে দিন।
৪. কষানো ও রান্না: এবার নুন, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো ও ফেটানো টকদই দিয়ে মিনিট দুয়েক ভালো করে কষিয়ে নিন। গ্রেভি মাখোমাখো হয়ে এলে সামান্য গরম জল দিয়ে ঢাকা দিন। পাঁচ-সাত মিনিট পর কপি সেদ্ধ হয়ে তেল ভেসে উঠলে ওপর থেকে গ্রেট করা খোয়া ক্ষীর এবং স্বাদমতো চিনি ছড়িয়ে দিন।
৫. শেষ ধাপ: সবশেষে গরম মশলা গুঁড়ো, গোলাপ জল ও কেওড়া জল মিশিয়ে আরও দু’মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। মনে রাখবেন, এই রান্নাটি সাদাটে বা হালকা লালচে হবে, তাই কোনোভাবেই হলুদ দেওয়া যাবে না। আর সর্ষের তেলের বদলে সাদা তেল ও ঘি ব্যবহার করাই শ্রেয়।
পরোটা, নান কিংবা যেকোনো সুগন্ধী পোলাওয়ের সঙ্গে এই ফুলকপির রেজ়ালা খেতে অপূর্ব লাগে। নিরামিষের দিনে এটি হতে পারে আপনার দুপুরের বা রাতের খাবারের সেরা আকর্ষণ।