দেবী দুর্গা (Durga) দশপ্রহরণধারিণী। মহিষাসুর বধের উদ্দেশ্যে দেবতারা যখন তাঁদের সম্মিলিত তেজ থেকে মহামায়াকে সৃষ্টি করেন, তখন তাঁরা নিজ নিজ প্রধান অস্ত্র দিয়ে দেবীকে সুসজ্জিত করেছিলেন। এই দশটি অস্ত্র কেবল যুদ্ধের সরঞ্জাম নয়, বরং এগুলোর গভীরে লুকিয়ে আছে সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক ও জাগতিক দর্শন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!অস্ত্রসমূহের উৎস ও তাৎপর্য:
-
ত্রিশূল: মহাদেব প্রদত্ত এই অস্ত্রের তিনটি ফলা মানুষের তিনটি গুণ—সত্ত্ব, রজ ও তম-র প্রতীক। এটি অশুভ বিনাশের প্রধান হাতিয়ার।
-
সুদর্শন চক্র: ভগবান বিষ্ণুর দেওয়া এই চক্র সমগ্র সৃষ্টির গতিশীলতা এবং ঐক্যের প্রতীক। এটি নির্দেশ করে যে, মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে দেবীশক্তি বিরাজমান।
-
বজ্র: দেবরাজ ইন্দ্রের এই অস্ত্র মানুষের মনের অজ্ঞতা, মিথ্যে ও জাগতিক মোহের অন্ধকারকে চূর্ণ করে পরম চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
-
গদা: যমরাজ প্রদত্ত ‘কালদণ্ড’ বা গদা আনুগত্য ও ভক্তির প্রতীক। এটি মানুষের অনর্থক মোহাচ্ছন্ন ভাবকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
-
শঙ্খ: বরুণ দেবের দেওয়া শঙ্খের ধ্বনি ওঙ্কারের সমতুল্য। এই পবিত্র নাদ অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির আবাহন করে।
-
তির-ধনুক: পবনদেব এই অস্ত্র দান করেছিলেন। এটি দেবীর একাগ্রতা এবং লক্ষ্যভেদী শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
-
খড়্গ: ধর্মরাজ প্রদত্ত এই অস্ত্র ন্যায়বিচার ও ধী-শক্তির প্রতীক। এটি সমাজের বৈষম্য ও কুসংস্কার নিধনের হাতিয়ার।
-
কুঠার: বিশ্বকর্মা প্রদত্ত এই অস্ত্র নির্মাণ ও ধ্বংস—উভয় ক্ষমতারই ভারসাম্য বজায় রাখে।
-
পদ্ম: ব্রহ্মা প্রদত্ত পদ্ম পূর্ণ জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীক। কর্দমাক্ত পৃথিবীতে থেকেও কীভাবে নিষ্কলঙ্ক থাকা যায়, পদ্ম সেই শিক্ষা দেয়।
-
সাপ (নাগপাশ): মহাদেব প্রদত্ত এই সর্প মানুষের সুপ্ত ‘কুলকুণ্ডলিনী’ শক্তির প্রতীক, যা সাধকের আধ্যাত্মিক চেতনার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
মা দুর্গার দশ হাতের এই দশটি আয়ুধ আসলে মানুষের অন্তর্নিহিত ষড়রিপুকে দমন করার এবং সমাজ থেকে অন্যায় দূর করে সত্য ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার এক একটি ঐশ্বরিক মন্ত্র।