যাঁদের বাড়িতে পোষ্য বিড়াল (Cat) বা মার্জার রয়েছে, তাঁরা জানেন যে কুকুরের চেয়ে এদের স্বভাব অনেকটাই আলাদা। বিড়াল স্বভাবগতভাবেই একটু বেশি ঘুমকাতুরে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণী। তবে অনেক সময় মালিকেরা একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন—গভীর রাতে হঠাত ঘুম ভাঙলে দেখেন তাঁদের আদরের পোষ্যটি একদৃষ্টে তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। বিষয়টি অনেকের কাছে রহস্যময় মনে হলেও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের কাছে এর একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!পশুরোগ চিকিৎসকদের মতে, বিড়ালের এই হালকা ঘুমকে ‘ক্যাট ন্যাপ’ বলা হয়। বিড়াল যখন ঘুমায়, তখনও তাদের কান খাড়া থাকে এবং চারপাশের সামান্য শব্দেই তারা সজাগ হয়ে যায়। বন্য বিড়ালের শিকারি স্বভাব থেকেই এই বৈশিষ্ট্যটি তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। বুনো বিড়ালরা শিকারের সময়টুকু ছাড়া বাকি সময় শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ঘুমিয়ে কাটাত। কিন্তু পোষ্য বিড়ালের ক্ষেত্রে এই গভীর রাতে তাকিয়ে থাকার পেছনে অন্য কিছু কারণ কাজ করে।
উত্তরপ্রদেশের অম্বেডকর নগরের অভিজ্ঞ পশুরোগ চিকিৎসক দীপরাজ প্রজাপতি জানান, বিড়াল মূলত শিকারি প্রাণী হওয়ায় সকাল এবং রাতে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। তাদের এই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পেছনে কাজ করে প্রখর কৌতূহল এবং নিরাপত্তার বোধ। অনেক সময় মালিকের সঙ্গে পোষ্যের গভীর মানসিক টান তৈরি হয়। শিশুরা যেমন ঘুমের মধ্যে পাশে মাকে খোঁজে, বিড়ালও তেমন নিশ্চিত হতে চায় যে তার প্রিয় মানুষটি পাশেই আছে কি না। মূলত ভরসা এবং নিরাপত্তার জায়গা থেকেই তারা এমন আচরণ করে।
আবার কখনও কখনও এই নীরব চাহনির পেছনে কোনো সুপ্ত চাহিদাও থাকতে পারে। বিড়াল সবসময় নিজের প্রয়োজনের কথা চিৎকার করে বলতে পারে না। তাই হয়তো সে মালিকের ঘুম ভাঙার অপেক্ষা করে, যাতে জেগে ওঠার পর সে তার খাবারের বা আদরের চাহিদা প্রকাশ করতে পারে।
কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? তবে সবসময় এই আচরণ স্বাভাবিক নাও হতে পারে। যদি দেখেন আপনার বিড়ালটি বয়স্ক বা অসুস্থ এবং সে প্রায় প্রতি রাতেই না ঘুমিয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকছে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। অনেক সময় কোনো শারীরিক যন্ত্রণা, অস্বস্তি বা অসুখের কারণে বিড়ালের স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এমন ক্ষেত্রে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ পশুরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পোষ্যের শারীরিক পরীক্ষা করানো উচিত।