সুপার কাপ ফাইনালে সহজ সুযোগ মিস করার পর থেকেই ইস্ট বেঙ্গলের জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি ইবোসুকিকে (Hiroshi Ibusuki)ঘিরে সমালোচনা তুঙ্গে।তাঁর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে প্রাক্তন ফুটবলার থেকে সমর্থক—সবাইই চরম বিরক্ত। ট্রান্সফার উইন্ডো খুলতেই তাঁকে দল থেকে ছাড়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। তবে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়ে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না। দলীয় সূত্রের খবর, হিরোশি কিংবা মরক্কান ফরোয়ার্ড হামিদ—দু’জনকেই আপাতত ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা নেই লাল-হলুদের।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মরশুমের শুরু থেকেই স্ট্রাইকার সংকটে জর্জরিত ইস্ট বেঙ্গল। গ্রিক স্ট্রাইকার দিমিত্রিয়স দিয়ামানতোখসকে নিয়ে প্রথমে অনেক আশা থাকলেও পরে তাঁর প্রতি ভরসা হারায় কোচিং স্টাফ। ডুরান্ড কাপে মোহন বাগানের বিরুদ্ধে দু’টি গোল করা সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শোনা যায়, তাঁর ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচও কম হয়নি। এরপরই দলে আসেন জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি ইবোসুকি। লম্বা চেহারা ও শারীরিক গঠনের জন্য প্রত্যাশা ছিল বেশি, কিন্তু বাস্তবে তিনি ভরসা রাখতে ব্যর্থ। গোলের সামনে সুযোগ নষ্ট করাই যেন তাঁর স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামিদও সমানভাবে হতাশ করেছেন।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইস্ট বেঙ্গলের সবচেয়ে বড় সমস্যা গোল করার ক্ষমতার অভাব। অতীতে র্যান্টি, চিডি কিংবা ডুডুর মতো স্ট্রাইকারেরা একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। বর্তমান বিদেশি স্ট্রাইকাররা তাঁদের ধারেকাছেও নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, হিরোশি বা হামিদকে রিলিজ করতে গেলে বিশাল ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আবার নতুন মানসম্মত স্ট্রাইকার আনতেও লাগে প্রচুর খরচ। অথচ ক্লাবের লগ্নিকারী সংস্থা এই মুহূর্তে বাড়তি ব্যয় করতে রাজি নয়।
এই আর্থিক অনীহার অন্যতম কারণ হল আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। দেশের শীর্ষ লিগ আদৌ আয়োজন হবে কি না, ফেডারেশন থেকেও স্পষ্ট বার্তা মিলছে না। ফলে অযথা অতিরিক্ত ক্ষতির ঝুঁকি নিতে চাইছে না ইস্ট বেঙ্গল থিঙ্কট্যাঙ্ক। তাদের ধারণা, হিরোশি ও হামিদকে আরও সময় দিলে হয়তো ফর্মে ফিরতে পারেন। ইতিমধ্যে হিরোশি গোয়া থেকে কলকাতায় ফিরে এসেছেন। কোচ অস্কারও গোয়া থেকে ফের দেশে ফিরেছেন। দলের অনুশীলন আপাতত স্থগিত রয়েছে।
এদিকে ৮ ডিসেম্বর ফুটবল ফেডারেশন এবং এফএসডিএলের মধ্যে চুক্তি শেষ হওয়ার ফলে ভারতীয় ফুটবল এখন কোনও বাণিজ্যিক অংশীদার ছাড়া দাঁড়িয়ে। এতে ফুটবলারদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি সপ্তাহেই আইএসএল ক্লাবজোটের বৈঠক বসবে, এবং পরিস্থিতি ভাল না বুঝলে বহু ক্লাব ফুটবলার ছাড়তে বা দল গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে।