বাঙালির যে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান—বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে অফিস পার্টি—সবই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় পাতে একটি মুচমুচে ফিশ ফ্রাই (Fish Fry) ছাড়া। সাধারণত আমরা রেস্তোরাঁ স্টাইল ভেটকি মাছের ফিশ ফ্রাই খেতেই অভ্যস্ত। তবে একঘেয়েমি কাটাতে এবার বাড়িতেই ট্রাই করতে পারেন একটু ভিন্ন ঘরানার ‘ভেটকি-চিংড়ির মিলমিশ’। এই পদে ভেটকির ফিলের ভেতরে থাকবে চিংড়ি মাছের রাজকীয় পুর, যা স্বাদে যোগ করবে এক অনন্য মাত্রা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রয়োজনীয় উপকরণ: এই পদের জন্য লাগবে ৭৫০ গ্রাম ভেটকি মাছের চওড়া ফিলে, ২৫০ গ্রাম কুচো চিংড়ি, ১০০ গ্রাম আলু, ২০০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচি এবং ৩টি ডিম। স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য প্রয়োজন লেবুর রস, গোলমরিচ গুঁড়ো, কাঁচালঙ্কা কুচি, ধনেপাতা এবং সামান্য তেঁতুল। বাইন্ডিংয়ের জন্য লাগবে ২০০ গ্রাম বিস্কুটের গুঁড়ো এবং ভাজার জন্য সাদা তেল।
প্রস্তুত প্রণালী:
-
মাছ ম্যারিনেশন: প্রথমে ভেটকি মাছের ফিলেগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর এতে লেবুর রস, নুন এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মাখিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন।
-
পুর তৈরি: অন্য একটি পাত্রে কুচো চিংড়ি এবং ডুমো করে কাটা আলু সেদ্ধ করে নিন। পেঁয়াজ কুচিগুলো আলাদা করে লালচে করে ভেজে নিন। এবার একটি মিক্সিতে ধনেপাতা, তেঁতুল এবং নুন দিয়ে একটি ঘন চাটনি তৈরি করুন। একটি বড় পাত্রে সেদ্ধ চিংড়ি, আলু, ভাজা পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা কুচি, ধনেপাতা কুচি এবং গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মেখে কবাবের মতো পুর তৈরি করুন।
-
রোল তৈরি ও কোটিং: ম্যারিনেট করা ভেটকির ফিলেগুলোর এক পিঠে আগে থেকে তৈরি করা তেঁতুলের চাটনি মাখিয়ে নিন। এবার ফিলের মাঝখানে চিংড়ির পুর দিয়ে আলতো করে মুড়িয়ে রোলের আকার দিন।
-
ভাজা: একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে নিন। মাছের রোলগুলোকে প্রথমে ডিমে ডুবিয়ে তারপর বিস্কুটের গুঁড়োতে ভালো করে কোট করে নিন (ডবল কোটিং করলে আরও মুচমুচে হবে)। কড়াইতে সাদা তেল গরম করে রোলগুলো ডুবো তেলে সোনালি করে ভেজে নিন।
পরিবেশন: তৈরি হয়ে গেল জিভে জল আনা ভেটকি-চিংড়ির যুগলবন্দি। কাসুন্দি, পেঁয়াজ কুচি এবং শসার স্যালাডের সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন। সাধারণ ফিশ ফ্রাইয়ের চেয়ে এটি অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং স্বাদে ভরপুর, যা আপনার অতিথি আপ্যায়নের মান বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।