স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন মানুষের কাছে অঙ্কুরিত ছোলা বা মুগ চিরকালই জনপ্রিয়। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানের আধুনিক চর্চায় এখন নতুন সংযোজন হলো ‘মাইক্রোগ্রিন’ (Microgreen)। পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণ অঙ্কুরিত বীজের তুলনায় এই অপরিণত চারা বা মাইক্রোগ্রিনের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, চিয়াবীজ অঙ্কুরিত হয়ে যখন ছোট চারায় রূপান্তরিত হয়, তখন তাতে ভিটামিন সি-এর মাত্রা প্রায় ১৭ গুণ বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, এটি শরীরকে আয়রন, জিঙ্ক এবং ক্যালসিয়াম শোষণেও দ্বিগুণ সাহায্য করে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মুগ, সরষে, মেথি বা পালং—যেকোনো বীজের এই কচি চারা এখন স্যালাড, স্যুপ বা স্যান্ডউইচের অন্যতম প্রধান উপকরণ। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, মাটি বা টবের ঝক্কি ছাড়াই শুধুমাত্র জল ব্যবহার করে বাড়ির ভেতরেই তৈরি করা যায় এই ‘সুপারফুড’।
জল দিয়ে মাইক্রোগ্রিন তৈরির সহজ ধাপ:
১. বীজ ভেজানো: পছন্দের বীজ (যেমন চিয়া, মেথি বা মুগ) ৫-৮ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুত হয়।
২. বীজ ছড়ানো: একটি ছিদ্রযুক্ত ট্রে বা ছাঁকনির ওপর পাতলা সুতির কাপড় বা টিস্যু বিছিয়ে ভেজানো বীজগুলো সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। খেয়াল রাখবেন যেন একটি বীজের ওপর অন্যটি না থাকে।
৩. জলের ব্যবস্থা: ট্রের নিচে অন্য একটি পাত্র রাখুন এবং তাতে এমনভাবে জল দিন যাতে উপরের ট্রের তলাটা শুধু ভিজে থাকে। বীজ যেন জলে ডুবে না যায়।
৪. অন্ধকারে রাখা: প্রথম ২-৩ দিন সরাসরি রোদ লাগে না এমন জায়গায় রাখুন এবং দিনে দু’বার স্প্রে বোতল দিয়ে জল ছিটিয়ে দিন।
৫. আলোর সংস্পর্শ: চারা ১-২ ইঞ্চি লম্বা হলে পাত্রটি জানালার পাশে বা পরোক্ষ সূর্যালোক পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। এতে পাতাগুলো সতেজ ও সবুজ হবে।
৬. জল বদলানো: শিকড়ে পচন এড়াতে প্রতিদিন নিচের পাত্রের জল বদলে ফেলুন।
৭. সংগ্রহ: সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হলে কাঁচি দিয়ে শিকড়ের ওপর থেকে কেটে সংগ্রহ করুন।
মনে রাখার বিষয়: মাইক্রোগ্রিনে যাতে ছত্রাক না জন্মায়, সেজন্য পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল জরুরি। সরাসরি কড়া রোদে রাখলে কচি চারা শুকিয়ে যেতে পারে। স্যালাড বা স্যান্ডউইচে এই মাইক্রোগ্রিন ছড়িয়ে খেলে তা শরীরের ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করে দ্রুত।