পুজোর ছুটিতে যারা কোলাহলমুক্ত কোনো নির্জন পাহাড়ের সন্ধানে আছেন, তাঁদের জন্য কালিম্পংয়ের অফবিট গ্রাম রিকিসুম (Rikisum) হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি যেন পূর্ব হিমালয়ের এক অনাবিষ্কৃত রহস্য। এখান থেকে এক নজরেই উপভোগ করা যায় ভুটান, চীন (তিব্বত) এবং সিকিমের বিস্তৃত পাহাড়ী সীমান্ত।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আকর্ষণ: রিকিসুমের প্রধান আকর্ষণ হলো এর শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী রূপ। রডোডেনড্রন ও ম্যাগনোলিয়া ফুলে ঘেরা এই গ্রামটি নীল ক্যানভাসে আঁকা কোনো ছবির মতো সুন্দর। ১৯০২ সালে ব্রিটিশদের তৈরি একটি ঐতিহাসিক বাংলোর ধ্বংসাবশেষ আজও এখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিকিসুমের ভিউ পয়েন্ট থেকে সূর্যোদয়ের যে অপূর্ব আলোর খেলা দেখা যায়, তা অনেকের মতে টাইগার হিলকেও টেক্কা দিতে পারে।
এখানকার আরও কিছু বিশেষত্ব হলো:
-
অবস্থান: কালিম্পং শহর থেকে ১৮ কিমি এবং পেডং থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরত্বে এর অবস্থান।
-
পরিবেশ: নেওড়া ভ্যালির গভীর জঙ্গলের পটভূমিতে অবস্থিত এই গ্রামটি পাখি পর্যবেক্ষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গরাজ্য।
-
অ্যাক্টিভিটি: গ্রামের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা তিস্তা নদীতে র্যাফটিং, মাছ ধরা কিংবা স্নান করার সুযোগ রয়েছে।
-
কাছের দর্শনীয় স্থান: কালিম্পং-লাভা-রিশপ সার্কিটের কেন্দ্রে হওয়ায় এখান থেকে সহজেই লাভা, পেডং এবং রিশপ ঘুরে নেওয়া যায়।
যাতায়াত ও আবাসন: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (NJP) থেকে রিকিসুমের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিমি এবং বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ৯৬ কিমি। শিলিগুড়ি থেকে ভাড়াগাড়িতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় এখানে পৌঁছানো যায়। কালিম্পং শহর থেকেও মাত্র ১ ঘণ্টার পথ।
রিকিসুমে কোনো বড় হোটেল না থাকলেও বেশ কিছু মনোরম হোমস্টে গড়ে উঠেছে। থাকা-খাওয়া মিলিয়ে দৈনিক মাথাপিছু খরচ পড়বে প্রায় ১৫০০ টাকার মতো। পর্যটকদের যাতায়াত কম থাকায় এখানে শহুরে কোলাহল নেই বললেই চলে, যা আপনার ছুটিকে দেবে এক পরম প্রশান্তি। তাই ভিড় এড়িয়ে হিমালয়ের কোলে নির্জনতা খুঁজলে রিকিসুম আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতেই পারে।