ভোটদানকে কেন্দ্র করে ফের ভাষা বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেতা আমির খান(Aamir Khan)। গত ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয় বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের নির্বাচন। সেই দিন ভোট দিতে গিয়েছিলেন আমির খান। তাঁর সঙ্গে প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত বা সন্তানরা ছিলেন না; অভিনেতা একাই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমির মারাঠি ভাষায় কথা বলেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আমিরের মারাঠিতে বক্তব্য শুনে কিছু সংবাদমাধ্যমকর্মী তাঁকে হিন্দিতে কথা বলার অনুরোধ জানান। তাঁদের যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি হিন্দি ভাষাতেই সম্প্রচার করা হবে। কিন্তু এই অনুরোধ শুনে অভিনেতা বিরক্ত হয়ে পড়েন। স্পষ্টতই অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা মহারাষ্ট্র!”—এই মন্তব্যের মাধ্যমেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন আমির খান।
মারাঠি ও হিন্দি ভাষা ঘিরে বিতর্ক মহারাষ্ট্রে নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই এই দুই ভাষার ব্যবহার ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা ও মতবিরোধ চলে আসছে। আমির খানের এই ঘটনাও সেই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল বলে মনে করছেন অনেকে। একজন সর্বভারতীয় স্তরের তারকা হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি হিন্দির বদলে মারাঠিতে কথা বললেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কয়েক মাস আগেই আমির খান জানিয়েছিলেন যে তিনি নিয়মিতভাবে একজন শিক্ষকের কাছ থেকে মারাঠি ভাষা শিখছেন। তখন অভিনেতা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কাজের প্রয়োজনে এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্যই তিনি এই ভাষা শেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ভোট দেওয়ার মতো একটি সরকারি প্রক্রিয়ার পর প্রকাশ্যে মারাঠিতে সাবলীলভাবে উত্তর দিতে দেখে অনেকেই অবাক হন।
সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অনুরোধ সত্ত্বেও হিন্দিতে কথা বলতে অনিচ্ছুক ছিলেন আমির। তাঁর এই আচরণকে কেউ আঞ্চলিক ভাষার প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, একজন জাতীয় স্তরের অভিনেতার কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত। সব মিলিয়ে, একটি সাধারণ ভোটদানের ঘটনার সূত্র ধরেই ভাষা ও পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন আমির খান।