ইমরান হাশমিকে(Emraan Hashmi) পর্দায় দেখলেই অনেকের মনে রোম্যান্টিক নায়কের ছবিটাই প্রথম ভেসে ওঠে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি যে সম্পূর্ণ একজন পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ, সে কথা অনেকেরই অজানা। অভিনেতার জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময় আসে তখনই, যখন তাঁর একমাত্র পুত্র আয়ানের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়, বদলে যায় ইমরানের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিও।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঘটনাটার দিনটিও শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণভাবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন ইমরান। কোনও অশুভ আশঙ্কা ছিল না মনে। কিন্তু আচমকাই ছেলের প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরোতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, আয়ানের অস্ত্রোপচার জরুরি। রিপোর্ট হাতে আসতেই ধরা পড়ে ভয়ংকর সত্য—ছোট্ট আয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত। ইমরানের কথায়, ওই ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যেন তাঁর পুরো জীবন বদলে গিয়েছিল। স্বাভাবিক দিনের সকাল থেকে শুরু করে রাতের মধ্যে তিনি একেবারে অন্য মানুষ হয়ে যান।
এই লড়াই শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও ছিল অত্যন্ত কঠিন। সন্তানের এমন অসুখ যে কোনও বাবা-মায়ের কাছেই সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। ইমরান নিজেও ভেঙে পড়েছিলেন, কিন্তু সেই দুর্বলতাকে প্রকাশ না করে বারবার নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। স্ত্রী ও পুত্রকে মানসিক জোর জোগানোই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান দায়িত্ব। নিজের ভয় আর কষ্টকে আড়াল করে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা ইমরান তুলে ধরেছেন তাঁর লেখা বই ‘দ্য কিস অব লাইফ’-এ। বইয়ের পাতায় তিনি খুব সৎভাবে বর্ণনা করেছেন সেই যন্ত্রণার দিনগুলো, অসহায়তা, ভয় এবং একই সঙ্গে আশা রাখার লড়াই। আয়ানের ক্যান্সার ধরা পড়ার পর প্রায় পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। এখন সে অনেকটাই সুস্থ, যা ইমরান ও তাঁর পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।
তবু সেই অভিজ্ঞতা আজও অভিনেতার মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। প্রতিটি মুহূর্তে অজানা আশঙ্কা কাজ করে তাঁর মনে—কখন আবার কোনও ঝড় এসে পড়ে, সেই ভয় তাড়া করে বেড়ায়। এই মানসিক চাপ এখনও তাঁকে কুরে কুরে খায়। বর্তমানে আয়ানের বয়স ১৫ বছর। সিনেমা জগতে আসার বিশেষ আগ্রহ তার নেই। খুব শিগগিরই কলেজ জীবন শুরু করতে চলেছে ইমরান-তনয়, আর সেই নতুন অধ্যায়ের দিকেই আশায় তাকিয়ে আছেন অভিনেতা।