কিডনি (Kidney) বিকল হওয়া বা কিডনির জটিল অসুখ মানেই দীর্ঘমেয়াদী ডায়ালিসিস অথবা ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিস্থাপনের আতঙ্ক। একবার এই অঙ্গটি কর্মক্ষমতা হারালে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি আশার আলো দেখাচ্ছে ‘স্টেম সেল থেরাপি’ (Stem Cell Therapy)। হার্ভার্ড স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের গবেষকদের দাবি, স্টেম কোষের জাদুকরী ক্ষমতার মাধ্যমে অকেজো কিডনিকেও পুনরায় সুস্থ করে তোলা সম্ভব হতে পারে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!স্টেম সেল থেরাপি ও গবেষকদের ভাবনা: স্টেম কোষ হলো শরীরের এমন এক আদি কোষ, যা অন্য যেকোনো কোষে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই কোষের প্রধান উৎস হলো নবজাতকের জন্মের সময় পাওয়া ‘অমরা’ (Placenta) বা মানুষের হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow)। বিজ্ঞানীরা এই কোষগুলিকে গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কিডনির কোষে রূপান্তরিত করার কাজ করছেন। যখন এই সুস্থ ও রূপান্তরিত কোষগুলি রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে, তখন তারা ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে প্রতিস্থাপন করে নতুন কোষের জন্ম দেবে। ফলে বিকল হয়ে যাওয়া কিডনি আবার সচল হওয়ার সুযোগ পাবে।
এই পদ্ধতির বিশেষত্ব:
-
ডায়ালিসিসের বিকল্প: এই থেরাপি সফল হলে রোগীদের আজীবন ডায়ালিসিসের কষ্ট সহ্য করতে হবে না।
-
ঝুঁকি হ্রাস: সাধারণ কিডনি প্রতিস্থাপনের তুলনায় স্টেম সেল প্রতিস্থাপনে অঙ্গ প্রত্যাখ্যান বা ‘অর্গান রিজেকশন’-এর ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
-
অন্যান্য রোগের নিরাময়: গবেষকদের মতে, স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে কেবল কিডনি নয়, ক্যানসারের মতো মারণব্যাধিও নির্মূল করা সম্ভব।
বর্তমানে এই বৈপ্লবিক পদ্ধতিটি গবেষণার স্তরে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। যদি বৃহৎ পরিসরে এই থেরাপি সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে ভবিষ্যতে কিডনি বিকল হওয়া মানেই আর নিশ্চিত মৃত্যু বা অসহ্য যন্ত্রণা নয়, বরং এক নতুন জীবনের হাতছানি হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অগ্রগতি সফল হলে তা মানবজাতির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে থাকবে।