প্রকৃতিপ্রেমী হোক বা নবদম্পতি—সিকিম সর্বদাই পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। বিশেষ করে শীতকালীন মধুচন্দ্রিমার (Honeymoon) জন্য সিকিম এক অনন্য গন্তব্য। কম খরচে তুষারশুভ্র পাহাড়ের কোলে রোমান্টিক সময় কাটানোর জন্য সিকিমের এই ৫টি জায়গা হতে পারে আপনার আদর্শ পছন্দ:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. চালামথাং (দক্ষিণ সিকিম): শহুরে কোলাহল থেকে দূরে দক্ষিণ সিকিমের এই ছোট্ট গ্রামটি প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত প্রায় ১৬০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী কুটির, যা বাঁশ ও ঘাস দিয়ে তৈরি। এই গ্রামে অবস্থান করলে আপনি আদিম পার্বত্য জীবনযাত্রার স্বাদ পাবেন। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টায় এখানে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
২. ইয়ুমথাং ও লাচুং (উত্তর সিকিম): বলিউডি কায়দায় তুষারাবৃত উপত্যকায় রোমান্স করতে চাইলে ইয়ুমথাং ভ্যালি সেরা অপশন। লাচুং থেকে সহজেই এখানে আসা যায়। এখানকার বুক চিরে বয়ে চলা পাহাড়ি নদী এবং কাছেই অবস্থিত ‘জিরো পয়েন্ট’ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তবে উত্তর সিকিমের এই অংশে ভ্রমণের জন্য প্রশাসনের আগাম অনুমতি প্রয়োজন।
৩. জঙ্গু (উত্তর সিকিম): নির্জনতা যাঁদের পছন্দ, তাঁদের জন্য লেপচা জনজাতি অধ্যুষিত ‘জঙ্গু’ এক মায়াবী স্থান। গ্যাংটক থেকে মঙ্গন হয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। এখান থেকে লিংজা জলপ্রপাত, উষ্ণ প্রস্রবণ এবং তিংভং গ্রামের আদিম সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। নিরিবিলি পরিবেশে মধুচন্দ্রিমা কাটানোর জন্য এটি সিকিমের অন্যতম সেরা লুকানো রত্ন।
৪. ইয়াকসম (পশ্চিম সিকিম): অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় দম্পতিদের জন্য পশ্চিম সিকিমের ইয়াকসম দারুণ জায়গা। এখান থেকেই বিখ্যাত গোয়েচা লা ট্রেক শুরু হয়। এখানকার প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির থেকে হিমালয়ের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। শীতকালে এখানকার শান্ত পরিবেশ মন ভালো করে দেয়।
৫. গুরুদোংমার হ্রদ (উত্তর সিকিম): শীতকালে বরফে ঢাকা গুরুদোংমার হ্রদ এক অপার্থিব সৌন্দর্য ধারণ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদটি দেখার অভিজ্ঞতা সারাজীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে। গ্যাংটক থেকে লাচেন হয়ে এখানে যেতে হয়।
সিকিমের এই অফবিট জায়গাগুলোতে যেতে হলে আগে থেকে পারমিট বা অনুমতি নিতে হয়। সাধারণত আপনি যে হোমস্টে বা হোটেলে থাকবেন, তারাই এই পারমিটের ব্যবস্থা করে দেয়। তাই ব্যাগ গুছিয়ে আজই পরিকল্পনা করে ফেলুন আপনার বাজেট-ফ্রেন্ডলি সিকিম হানিমুনের।