সম্প্রতি দুই ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁদের ভিডিওতে দাবি করেছেন যে, ২ টাকার কফির (Coffee) পাউচ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁদের মতে, এই কফিতে থাকা ‘অ্যাক্রেল্যামাইড’ নামক উপাদানটি ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে এবং স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয়। ভিডিওগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, খারাপ হয়ে যাওয়া কফি বিন উচ্চ তাপমাত্রায় প্রসেস করার ফলে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা বেড়ে যায়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সোশ্যাল মিডিয়ার এই ক্যানসার আতঙ্ক ছাড়াও ইনস্ট্যান্ট কফি নিয়ে গবেষণায় ভিন্ন এক উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত ইনস্ট্যান্ট কফি সেবনে ‘এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’ (AMD) বা চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ‘ড্রাই এএমডি’-র ক্ষেত্রে এই কফি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কফি প্রসেসিংয়ের সময় তৈরি হওয়া অ্যাক্রেল্যামাইড এবং ‘অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড প্রোডাক্টস’ চোখের রেটিনায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ সৃষ্টি করে।
তবে ২ টাকার কফি নিয়ে এই ভয়াবহ দাবির সত্যতা যাচাই করতে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি এই ক্যানসার বা স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্যকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য ও অভয়বাণী:
-
ক্যাফেইনের মাত্রা: ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, একটি ২ টাকার পাউচে মাত্র ৪৬ মিলিগ্রাম মতো ক্যাফেইন থাকে। বড় প্যাকেট বা বোতলের কফির তুলনায় এর উপাদানে বিশেষ কোনো তফাত নেই।
-
ক্যানসারের ঝুঁকি নেই: তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ২ টাকার কফি থেকে ক্যানসার হওয়ার কোনো প্রামাণ্য তথ্য নেই। সাধারণ কফিতে যেমন ব্যাকটেরিয়া বা কীটনাশকের সামান্য ঝুঁকি থাকে, এতেও তার বেশি কিছু নেই।
-
সংরক্ষণই আসল: চিকিৎসকের মতে, ২ টাকার পাউচ হোক বা দামী বোতল—কফি যদি সঠিকভাবে স্টোর বা সংরক্ষণ করা না হয়, তবেই তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। পাউচ সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকলে তা পানে কোনো বাধা নেই।
-
স্বাদের পরামর্শ: এই পাউচগুলোতে ক্যাফেইন কম থাকায় বেশি জল দিয়ে না গুলতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যাতে স্বাদ বজায় থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার চটকদার ভিডিওতে ছড়ানো আতঙ্ক বৈজ্ঞানিকভাবে ধোপে টেকে না। বিশ্বস্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে পাউচ কফি খাওয়া নিরাপদ। তবে পরিবারের চোখের সমস্যার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।