সুস্থ থাকার জন্য ডায়েট থেকে চিনিকে (Sugar) পুরোপুরি ছেঁটে ফেলার প্রবণতা ইদানীং অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকদের মতে, চিনি মানেই সবসময় বিষ নয়; বরং সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে এর ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে মহৌষধের মতো কাজ করে। প্রত্যেকের শরীরের গঠন ও চাহিদা ভিন্ন, তাই ঢালাওভাবে চিনি বন্ধ করা সবার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!জরুরি মুহূর্তে চিনির গুরুত্ব: চিনি বর্জন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা হলো ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এমনকি অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এই সময় সামান্য চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
বিশেষ জীবনধারা ও শারীরিক অবস্থা: গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ চিনি বন্ধ করে দিলে তা মা ও ভ্রূণ—দুজনের স্বাস্থ্যের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার বাড়ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে শরীর ও মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই তাদের খাদ্যতালিকা থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এছাড়া যারা খেলোয়াড় কিংবা কঠোর কায়িক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের তাৎক্ষণিক শক্তির (Instant Energy) জন্য গ্লুকোজ বা চিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা: অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই চিনি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া সমাধান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হুট করে চিনি পুরোপুরি বন্ধ করলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা হতে পারে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। তাই ডায়েটে যেকোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, চিনি বিষ নয়, বরং এর মাত্রাতিরিক্ত সেবনই সমস্যার মূল কারণ। শরীরের প্রয়োজন ও অবস্থা বুঝে পরিমিত চিনি গ্রহণ করলে তা দ্রুত শক্তির জোগান দেয় এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তাই অন্যের দেখা দেখি নয়, নিজের শরীরের ভাষা বুঝে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই ডায়েট চার্ট তৈরি করা উচিত।