নারীর মন বোঝা নিয়ে প্রচলিত অনেক জটিলতা থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক নারীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মনের সুপ্ত ইচ্ছা বা মিলনের আকাঙ্ক্ষা (Romance) বোঝার জন্য খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই; কেবল একটু সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই তা বোঝা সম্ভব। গবেষকরা নারীর আচরণের পাঁচটি বিশেষ দিকের কথা উল্লেখ করেছেন, যা মূলত সঙ্গীর প্রতি তাঁদের বিশেষ আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. দিনের শুরু থেকেই আলাপচারিতা: গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যৌনতার ইচ্ছা হুট করে তৈরি হয় না, বরং দিনের শুরু থেকেই তার আভাস পাওয়া যায়। এমন দিনে নারীরা কথায় কথায় যৌনতা বা রোমান্টিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এমনকি সঙ্গীর অগোচরে তাঁরা নীল ছবি বা কামোদ্দীপক কন্টেন্টের প্রতিও আগ্রহী হতে পারেন।
২. পোশাক ও সাজসজ্জায় পরিবর্তন: সঙ্গমের ইচ্ছা প্রবল হলে নারীরা নিজেদের অজান্তেই শারীরিক আবেদন ফুটিয়ে তুলতে চান। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এদিন তাঁরা বাড়িতে তুলনামূলক পাতলা বা খোলামেলা পোশাকে ঘোরাফেরা করছেন। এমনকি অনলাইন শপিংয়েও তাঁরা এমন অন্তর্বাস বা পোশাক পছন্দ করেন, যা সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে সহায়ক।
৩. শরীরী ভাষা ও কণ্ঠস্বর: গবেষকরা বলছেন, মিলনের আকাঙ্ক্ষা থাকলে নারীর কণ্ঠস্বর অন্য দিনের তুলনায় কোমল ও মায়াবী হয়ে ওঠে। তাঁদের চোখে এক ধরনের আলস্য বা ঘুম-ঘুম ভাব পরিলক্ষিত হয়, যা মূলত প্রেমের গভীরতাকে প্রকাশ করে। তাঁদের চলনবলন ও আদব-কায়দায় এক ধরণের উদাসীন অথচ আকর্ষণীয় ভাব ফুটে ওঠে।
৪. সঙ্গীকে খুশি করার বিশেষ উদ্যোগ: নারীরা যখন মানসিকভাবে মিলনের জন্য প্রস্তুত থাকেন, তখন তাঁরা পুরুষ সঙ্গীর মন জয় করার চেষ্টা করেন। বিশেষ কোনো খাবার রান্না করা, একসাথে গান শোনা বা কোয়ালিটি টাইম কাটানোর পরিকল্পনা করা—এসবই সেই ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। প্রিয় মানুষের প্রিয় কাজগুলো করার মাধ্যমেই তাঁরা মূলত নিজেদের ইচ্ছার জানান দেন।
৫. পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধির ব্যবহার: এদিন নারীরা স্নানঘরে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন। নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি তাঁরা বিশেষ ধরণের সুগন্ধি ব্যবহার করেন। এই সুগন্ধি এবং বাড়তি রূপচর্চা মূলত সঙ্গীকে নিঃশব্দে আমন্ত্রন জানানোর একটি হাতিয়ার।
তবে গবেষকরা পরিশেষে একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন—মানুষভেদে এই আচরণ ভিন্ন হতে পারে। সবার প্রকাশের ভঙ্গি এক নয়। এই গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো কেবলই সাধারণ প্রবণতা মাত্র; চূড়ান্তভাবে সবকিছুই নির্ভর করে ব্যক্তির নিজস্ব রুচি ও পারস্পরিক সম্মতির ওপর।