শীতের হিমেল হাওয়ায় গরম গরম খাবারের তৃপ্তিই আলাদা। বাড়ির ছোট সদস্যদের পাশাপাশি আমাদের চারপেয়ে পোষ্যদের (Pets) ক্ষেত্রেও আমরা অনেক সময় একই নিয়ম খাটাতে চাই। কিন্তু পোষ্যদের জন্য খাবার কতটা গরম হওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। সম্প্রতি এক পোষ্য ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক বীরভান এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!গরম না কি ঈষদুষ্ণ: কোনটি সেরা? চিকিৎসকদের মতে, পোষ্যদের কখনোই ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম খাবার দেওয়া উচিত নয়। বরং শীতের আমেজে তাদের ঈষদুষ্ণ (Lukewarm) খাবার ও জল দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষ করে যে সব প্রজাতির কুকুরের পশম ছোট, তাদের জন্য উষ্ণ খাবার অত্যন্ত আরামদায়ক। এই ধরনের খাবার যেমন সুস্বাদু, তেমনই তা হজম করাও সহজ।
জলের ঘাটতি পূরণে উষ্ণতা শীতকালে সারমেয়দের মধ্যে জল খাওয়ার অনীহা দেখা দেয়, যা থেকে শরীরে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। চিকিৎসকের মতে, সাধারণ ঠান্ডা জলের বদলে যদি সামান্য উষ্ণ জল দেওয়া হয়, তবে তারা অনায়াসেই তা পান করে। ফলে শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সতর্কতা ও নিয়মাবলী ভালো করতে গিয়ে যাতে পোষ্যের ক্ষতি না হয়, সেজন্য কয়েকটি জরুরি দিক মাথায় রাখা প্রয়োজন:
-
তাপমাত্রা পরীক্ষা: খাবার বা জল দেওয়ার আগে নিজের হাত দিয়ে যাচাই করে নিন সেটি কতখানি গরম। অতিরিক্ত গরম খাবার দিলে পোষ্যের মুখ বা জিভ পুড়ে গিয়ে মারাত্মক ক্ষত হতে পারে।
-
বাসি খাবার বর্জন: উষ্ণ খাবার দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। যদি খাবার ঠান্ডা হয়ে যায়, তবে তা পুনরায় গরম করে দেবেন না। টাটকা ও ঈষদুষ্ণ খাবারই তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
-
শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ: খাবারের তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে যদি পোষ্যের মলত্যাগের অভ্যাসে বা মলের ধরনে কোনো পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে দ্রুত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
-
স্থায়ী রুটিন নয়: শীতের কয়েক মাস উষ্ণ খাবার দিলেও এটিকে দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে পরিণত করবেন না। আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে খাবারের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
পরিশেষে, পোষ্যের সুস্থতা নির্ভর করে সঠিক ভারসাম্যের ওপর। শীতের আরাম দিতে গিয়ে তাদের শরীরের স্বাভাবিক সহ্যক্ষমতার কথা ভুলে গেলে চলবে না। সামান্য সচেতনতাই আপনার প্রিয় চারপেয়ে বন্ধুটিকে এই শীতে সুস্থ ও চনমনে রাখতে পারে।