চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে পারসিমন (Persimmon) এখন বিশ্বজুড়ে এক জনপ্রিয় ‘সুপারফুড’। টম্যাটোর মতো দেখতে, উজ্জ্বল কমলা রঙের মিষ্টি স্বাদের এই বিদেশি ফলটি বর্তমানে ভারতের বাজারেও বেশ পরিচিতি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই ফলটি নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন দিল্লির গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট ডাঃ শুভম বৎস।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ডাঃ বৎসের মতে, অদূর ভবিষ্যতে পারসিমন ভারতের অন্যতম প্রধান সুপারফুড হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বিশ্লেষণে এই ফলের বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণ উঠে এসেছে:
পুষ্টির ভাণ্ডার
পারসিমন মূলত ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ঠাসা। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই এবং কে রয়েছে। এ ছাড়া পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ়ের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ মেলে এই ফল থেকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
এই ফলে জলে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—উভয় প্রকার ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি কেবল দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করে না, বরং নিয়মিত মলত্যাগ স্বাভাবিক রেখে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা
পারসিমনে থাকা ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্ল্যাভোনয়েড হার্টের ধমনীকে সুরক্ষিত রাখে। এটি রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।
প্রদাহনাশক ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
এতে বিদ্যমান ট্যানিন এবং পলিফেনল শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন দূর করে। মজার বিষয় হলো, মিষ্টি স্বাদের হওয়া সত্ত্বেও এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়। এর ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
উপকারিতা থাকলেও পারসিমন খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পরিমাণে পারসিমন খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে; বিশেষ করে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে এবং সঠিক পুষ্টি পেতে পরিমিত পরিমাণে এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।