প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় হলো উষ্ণ প্রস্রবণ বা ‘হট স্প্রিং’। ভূ-গর্ভস্থ প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত জল যখন খনিজ সমৃদ্ধ হয়ে ভূপৃষ্ঠে চুঁইয়ে আসে, তখনই সৃষ্টি হয় এই অনন্য নিদর্শনের। ভারতের (India) বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এমনই তিনটি জনপ্রিয় উষ্ণ প্রস্রবণের হদিস নিচে দেওয়া হলো:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. মণিকর্ণ (হিমাচল প্রদেশ): হিমাচলের কুল্লু জেলার পার্বতী উপত্যকায় অবস্থিত মণিকর্ণ হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে পার্বতী নদীর তীর ঘেষেই গুরুদ্বার এবং মন্দির চত্বরে অনবরত ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মাটির নিচ থেকে বেরোনো এই তপ্ত জল এতটাই গরম যে তাতে চাল-ডাল পর্যন্ত সেদ্ধ করা যায়। এখানকার জলে সালফার বা গন্ধক মিশে থাকায় মনে করা হয় এতে স্নান করলে বাতের ব্যথা ও চর্মরোগ সেরে যায়।
-
যাতায়াত: দিল্লি বা চণ্ডীগড় থেকে বাসে ভুন্টার হয়ে সহজেই মণিকর্ণ পৌঁছানো যায়।
২. ইয়ুমথাং উপত্যকা (সিকিম): উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার লাচুং থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে জগদ্বিখ্যাত ইয়ুমথাং ভ্যালি। লাচুং নদীর তীরে পাহাড়ে ঘেরা এই উপত্যকায় একটি চমৎকার উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত এই উষ্ণ কুণ্ডে পৌঁছাতে বেশ কিছু সিঁড়ি ভাঙতে হয়। এছাড়া এখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ইয়ম সামডং বা জিরো পয়েন্টের কাছেও আরও একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। বরফশীতল পাহাড়ি পরিবেশে এই তপ্ত জলের ধারা পর্যটকদের কাছে এক বড় আকর্ষণ।
-
যাতায়াত: গ্যাংটক থেকে গাড়ি ভাড়া করে লাচুং হয়ে এখানে আসতে হয়।
৩. বক্রেশ্বর (পশ্চিমবঙ্গ): বাংলার বীরভূম জেলায় সিউড়ির কাছেই অবস্থিত বক্রেশ্বর। এটি কেবল উষ্ণ প্রস্রবণের জন্যই নয়, সতীপীঠ ও শিবধাম হিসেবেও খ্যাত। এখানে ছোট-বড় একাধিক কুণ্ড রয়েছে যেখান থেকে প্রতিনিয়ত গরম জল ও বাষ্প নির্গত হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে স্নানাগার তৈরি করা হয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এখানকার খনিজসমৃদ্ধ জলে স্নান করলে শরীর ও মন সতেজ হয়।
-
যাতায়াত: ট্রেন বা বাসে সিউড়ি পৌঁছে সেখান থেকে খুব সহজেই বক্রেশ্বর যাওয়া যায়।
অরণ্য, পাহাড় আর সমুদ্র তো অনেক হলো, এবার প্রকৃতির এই তপ্ত রহস্য চাক্ষুষ করতে বেরিয়ে পড়ুন এই তিন ঠিকানার উদ্দেশ্যে।