যৌনতা নিয়ে আমাদের সমাজে বিদ্যমান নানা সংকোচ ও ট্যাবু অনেক সময় ভুল তথ্যের জন্ম দেয়, যা বড় ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে কন্ডোম (Condom) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানা এবং লোকলজ্জার ভয়ে তা লুকিয়ে রাখার প্রবণতা হিতে বিপরীত হতে পারে। নিরাপদ যৌনতা এবং অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ রোধে কন্ডোম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ: অনেকেই গোপনীয়তা বজায় রাখতে কন্ডোম মানিব্যাগে বা আলমারির গভীর কোণে স্তূপাকার জিনিসের নিচে রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানিব্যাগে রাখলে বসার সময় ঘষা লেগে বা চাপে কন্ডোম ফুটো হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত তাপ বা চাপের ফলে এর ল্যাটেক্স নষ্ট হয়ে কার্যকারিতা হারায়। ব্যাগের ভেতরে থাকা চাবি বা অন্য কোনো সূক্ষ্ম জিনিসের খোঁচায়ও এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কন্ডোম সবসময় ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় রাখা উচিত।
২. মেয়াদের দিকে নজর: কন্ডোম ব্যবহারের আগে অবশ্যই এর ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন। মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া কন্ডোম সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে এবং এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৩. ব্যবহারের সঠিক সময়: অনেকের ধারণা, সঙ্গম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে কন্ডোম পরলেই চলে। এটি একটি মারাত্মক ভুল। যৌনক্রিয়া চলাকালীন ক্লাইম্যাক্সের আগেই শুক্রাণু নির্গত হতে পারে, যা গর্ভধারণের জন্য যথেষ্ট। তাই নিরাপদ থাকতে মিলনের শুরু থেকেই কন্ডোম ব্যবহার করা উচিত।
৪. গুণগত মান নিশ্চিত করা: কথায় আছে, সস্তার তিন অবস্থা। সস্তা বা অখ্যাত কোম্পানির কন্ডোম ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবসময় জনপ্রিয় ও স্বীকৃত ব্র্যান্ডের ভালো মানের কন্ডোম ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. লুব্রিকেন্ট ব্যবহারে সতর্কতা: ঘনিষ্ঠ মুহূর্তকে আরামদায়ক করতে অনেকেই কন্ডোমের ওপর লোশন, ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাজলিন ব্যবহার করেন। তেলজাতীয় এসব দ্রব্য কন্ডোমের ল্যাটেক্স নষ্ট করে দেয়। তাই লুব্রিকেন্ট হিসেবে সবসময় ওয়াটার-বেসড বা ভালো কোম্পানির লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন।
লোকলজ্জা কাটিয়ে উঠে যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সঠিক নিয়মে কন্ডোম ব্যবহার কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিই এড়ায় না, বরং যৌনবাহিত রোগের হাত থেকেও সুরক্ষা দেয়।