শরীরের যে কোনো অঙ্গে ক্যানসার হানা দিতে পারে, তবে কানের ক্যানসার বা ‘ইয়ার ক্যানসার’ (Ear cancer) অত্যন্ত বিরল হওয়ায় সাধারণত এটি শুরুতে ধরা পড়ে না। সাধারণ কানের ব্যথা বা ইনফেকশন ভেবে অবহেলা করার ফলে অনেক সময় রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনতে পারা এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই এই মারণ রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কানের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ
কানের ব্যথার সমস্যা আমাদের অতি পরিচিত, যা ড্রপ বা ওষুধে সাময়িক কমে যায়। কিন্তু যদি দেখেন:
-
বারবার ফিরে আসা ব্যথা: ওষুধ খাওয়ার পরও যদি তীব্র ও অসহ্য ব্যথা বারবার ফিরে আসে।
-
তরল নিঃসরণ ও রক্তপাত: কান থেকে লালচে পুঁজ বা অদ্ভুত রঙের তরল বের হওয়া এবং রক্তপাত হওয়া এই রোগের বড় উপসর্গ।
-
শ্রবণশক্তি হ্রাস ও টিনিটাস: কানে কম শোনা বা সারাক্ষণ একঘেয়ে ‘ভোঁ ভোঁ’ শব্দ (টিনিটাস) হওয়া মোটেই ভালো লক্ষণ নয়।
-
বাহ্যিক পরিবর্তন: কানের বাইরের অংশে টিউমার বা ত্বকের ক্যানসারের মতো ক্ষত তৈরি হওয়া, যা দ্রুত ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কেন শনাক্ত করতে দেরি হয়?
কানের ক্যানসার বিরল হওয়ায় রোগী তো বটেই, অনেক সময় চিকিৎসকরাও একে সাধারণ সংক্রমণ ভেবে ভুল করেন। কানের গহ্বর বা মধ্যকর্ণ (Middle Ear) আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরে লক্ষণগুলো উপেক্ষা করার কারণেই ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি রোগের তীব্রতা বাড়লে চুল পড়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
প্রতিকার ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কানের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি বা কানের মোমের (Cerumen) রঙের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে ঘরোয়া টোটকায় ভরসা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কানের ভেতরে কোনো পিণ্ড বা ফোলা ভাব অনুভব করলে বায়োপসি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি বা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্ণ সুস্থতা সম্ভব। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ত্যাগ করা এবং সচেতন থাকাই এই বিরল ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার।