শীতের হিমেল হাওয়ায় কলকাতার উৎসবমুখর পরিবেশে ডায়েটের কথা ভুলে রসনা তৃপ্তিতে মেতে ওঠেন সব বয়সের মানুষ। বড়দিনের আগেই জাঁকিয়ে শীত পড়ার এই মনোরম আবহে বাঙালির পেটপুজোর (Dishes) এক আকর্ষণীয় মানচিত্র উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। সাধ্যের মধ্যে সাধপূরণের একগুচ্ছ সেরা ঠিকানার সুলুকসন্ধান দেওয়া হলো এখানে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মোমো ও পাহাড়ের স্বাদ: শীতের সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা সুস্বাদু মোমো মানেই পরম তৃপ্তি। কলকাতায় বসে পাহাড়ি আমেজ পেতে ময়দানের সিকিম হাউজ হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। বাঁশের কারুকার্য আর আলো-আঁধারির পরিবেশে এখানকার মোমো ও স্যুপ আপনাকে ক্ষণিকের জন্য পাহাড়ে নিয়ে যাবে। এছাড়া দক্ষিণ কলকাতার এন্টালির রিনচেন মোমো এবং ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের লেপচা অত্যন্ত জনপ্রিয়। জনপ্রতি খরচ মাত্র ১৬০ থেকে ২০০ টাকা।
চেনা স্বাদ ও স্ট্রিট ফুড: রোল, চাউমিন বা কবিরাজির খাঁটি স্বাদ পেতে ভিড় জমান যাদবপুরের চায়না গ্রিন, কলেজ স্ট্রিটের দিলখুশা কেবিন, গুঞ্জন চাইনিজ ফুড কিংবা শোভাবাজারের ঐতিহ্যবাহী মিত্র ক্যাফেতে। পার্ক স্ট্রিটের হটকাটি রোলের স্বাদও অনবদ্য। এই জায়গাগুলোতে পেটপুজোর খরচ পড়বে মাথা পিছু মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
কাবাব ও মুঘলাই খানা: যাঁরা কাবাব প্রেমী, তাঁদের জন্য জানুয়ারি মাসের সেরা গন্তব্য জাকারিয়া স্ট্রিট। হরেক রকমের কাবাবের গন্ধে মোহিত এই রাস্তা শীতের সন্ধ্যায় অন্য রূপ পায়। মাত্র ১০০ টাকার বাজেটেই এখানে জিভে জল আনা কাবাব চেখে দেখা সম্ভব।
জলখাবার ও সাবেকিয়ানা: শীতের সকালে গরম গরম কচুরি আর আলুর দম বাঙালির আবেগ। এই রসাস্বাদনে সেরা ঠিকানা কলেজ স্ট্রিটের পুঁটিরাম, বউবাজারের ভীম নাগ কিংবা হাতিবাগানের নকুড়। ২৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যেই এখানে রাজকীয় জলখাবার সারা সম্ভব।
শীতের রাজকীয় পদ – নিহারি: শীতের কলকাতায় মটন নিহারির স্বাদ না নিলে পেটপুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মশলাদার ঘন ঝোলে দীর্ঘক্ষণ সেদ্ধ করা নরম তুলতুলে মাংসের এই পদের জন্য ঘুরে আসুন চাঁদনি চকের সাবির কিংবা জাকারিয়া স্ট্রিটের সুফিয়া রেস্তরাঁয়। এখানকার বিশেষ রন্ধনপ্রণালীর কারণে খরচ পড়বে জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে স্বাদের কাছে এই খরচ ভোজনরসিকদের কাছে নগণ্য।
পরিশেষে বলা যায়, রাস্তার ধারের স্ট্রিট ফুড হোক বা প্রাচীন কেবিন—শীতের কলকাতা এখন স্বাদের উৎসবে মাতোয়ারা।