শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অথচ রোমাঞ্চ আর নির্জনতায় ভরপুর একটি গন্তব্য খুঁজলে ওড়িশার ঢেঙ্কানল (Dhenkanal) হতে পারে আপনার আদর্শ ঠিকানা। ৫ দিনের ছোট্ট ছুটিতে অরণ্য, পাহাড় আর ইতিহাসের স্বাদ নিতে এই শীতেই পাড়ি দিতে পারেন এখানে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ফেলুদার স্মৃতি ও রাজবাড়ি: সন্দীপ রায়ের পরিচালিত ফেলুদার ছবি ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’-এর সেই বিখ্যাত রাজপ্রাসাদটি আসলে এই ঢেঙ্কানলেই অবস্থিত। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই বিশাল অট্টালিকায় আজও রাজকীয় আভিজাত্য অটুট। বর্তমানে এর একাংশ বিলাসবহুল পর্যটন আবাসে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে থাকলে আপনিও সিনেমার সেই শিকারি আমেজ অনুভব করতে পারবেন।
ওড়িশার কৈলাস—কপিলাস: ঢেঙ্কানল শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কপিলাস পাহাড়। একে স্থানীয়রা ওড়িশার কৈলাস বলে মান্য করেন। পাহাড়ের চুড়ায় রয়েছে রাজা নরসিংহ দেবের নির্মিত দুধসাদা চন্দ্রশেখর শিব মন্দির। আগে সিঁড়ি ভেঙে উঠলেও এখন গাড়ি একদম পাহাড়ের ওপর মন্দির পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চারদিকের ঘন অরণ্যশোভা এখান থেকে অপূর্ব দেখায়। পাহাড়ের পাশেই রয়েছে কপিলাস অভয়ারণ্য, যা হায়না, জঙ্গল ক্যাট এবং বিচিত্র বন্যপ্রাণের আশ্রয়স্থল।
মহিমা ধর্ম ও জোরান্ডা: ঢেঙ্কানল থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে জোরান্ডায় রয়েছে বিখ্যাত মহিমা মন্দির। মহিমা স্বামীর স্মৃতিতে তৈরি এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রটি স্থানীয় সংস্কৃতির এক বড় অংশ। বিশেষ করে মাঘী পূর্ণিমার উৎসবে এখানে এক বিশাল মেলা বসে।
সাতকোশিয়া ব্যাঘ্র প্রকল্প: হাতে বাড়তি ২-৩ দিন থাকলে ১৮৭ কিমি দূরে সাতকোশিয়া ঘুরে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। মহানদীর তীরে অরণ্যঘেরা এই স্থানটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। নদীতে নৌবিহারের সময় রোদ পোহানো কুমিরের দেখা মেলা এখানে অতি সাধারণ ঘটনা। পাহাড়, নদী আর জঙ্গলের ত্র্যহস্পর্শে সাতকোশিয়ায় সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে রাখার মতো। মহানদীর চওড়া বালুতটে অলস সময় কাটানো বা জঙ্গল সাফারির সুযোগ—উভয়ই পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
যাতায়াত ও থাকা: শালিমার থেকে ‘সম্বলপুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস’ ধরে সরাসরি ঢেঙ্কানল পৌঁছানো যায়। এছাড়া ভুবনেশ্বর বা কটক থেকেও ট্রেনে বা সড়কপথে আসা সম্ভব। থাকার জন্য ঢেঙ্কানল রাজবাড়ি ছাড়াও ওড়িশা পর্যটন দপ্তরের চমৎকার গেস্ট হাউস (পান্থনিবাস) এবং ইকো-টুরিজম কটেজ রয়েছে।
শীতের আমেজে ইতিহাসের অলিগলি আর মহানদীর চরে হারিয়ে যেতে এবার আপনার গন্তব্য হোক ঢেঙ্কানল।