T20 World Cup
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের T20 World Cup আগে ভারতের ব্যাটিং গভীরতার প্রমাণ আরও এক বার পাওয়া গেল নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। বিশাখাপত্তনমে ৫০ রানে হারলেও শিবম দুবের ব্যাটিং প্রাপ্তি হয়ে রইল ভারতের। ২০ ওভারে নিউ জ়িল্যান্ডের ২১৫ রান তাড়া করতে নেমে এ দিন প্রথম বলেই অভিষেক শর্মার উইকেট হারায় ভারত। চোটের জন্য খেলেননি ঈশান কিষন। Suryakumar Yadav সূর্যকুমার যাদবও রান পেলেন না। একটা সময় ভারতের স্কোর ছিল চার উইকেটে ৬৩। মনে হচ্ছিল, এই ম্যাচে বুঝি ভারতের ব্যাটিং-ধস দেখা যাবে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কিন্তু প্রথমে রিঙ্কু সিংহ এবং পরে শিবম দুবের বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে এনেছিল। দুর্ভাগ্যবশত শিবম রান আউট না হলে ম্যাচে আরও তীব্র লড়াই হত নিঃসন্দেহে। সিরিজ় ইতিমধ্যেই জিতে নিয়েছে ভারত। তবু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কম গুরুত্ব ছিল না এই ম্যাচের। এই সিরিজ়ে শুরুর দিকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বিধ্বংসী ছন্দে থাকায় ব্যাট করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না দুবে। এই ম্যাচে পেলেন এবং বুঝিয়ে দিলেন শেষ দিকে ভারতের ইনিংসকে টানার ক্ষমতা আছে তাঁর। আগের ম্যাচে ১৪ বলে অর্ধশতরান করে ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন অভিষেক। এই ম্যাচে ১৫ বলে অর্ধশতরান করে গেলেন দুবে। এই বাঁ-হাতি যখন মারছিলেন, তখন দিশাহারা দেখাচ্ছিল নিউ জ়িল্যান্ড বোলারদের। কিন্তু পুরোপুরি দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে ফিরে গেলেন দুবে।
হর্ষিত রানার শট বোলার ম্যাট হেনরির হাতে লেগে নন স্ট্রাইকার প্রান্তের উইকেটে লাগে। রান নেওয়ার জন্য তখন ক্রিজ় থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন দুবে। আর ফিরতে পারেননি। ম্যাচের ভাগ্য ওখানেই ঠিক হয়ে যায়। দুবে ফিরে যান ২৩ বলে ৬৫ রান করে। মারেন সাতটা ছয়, তিনটি চার। এ দিন ঈশান না খেলায় রিঙ্কুকে চার নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয়।রিঙ্কুও সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ব্যাট করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পেসার জ়্যাক ফোকসের বলে সুইপ করতে গিয়ে প্যাডে লাগান রিঙ্কু। তিনি করেন ৩০ বলে ৩৯। মারেন তিনটি চার, দু’টি ছয়।
নিউ জ়িল্যান্ডের ২১৫ রানের জবাবে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৮.৪ ওভারে ১৬৫ রানে। ঈশান না খেলায় এই ম্যাচে এক জন ব্যাটসম্যান কম নিয়ে নামতে হয় ভারতকে। ঈশানের জায়গায় খেলেন বাঁ-হাতি পেসার আরশদীপ সিংহ। এই ম্যাচে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন হার্দিক পাণ্ড্য তিনি বল করেননি। আর ব্যাট হাতে করেন মাত্র দুই রান। বড় রান করতে পারলেন না সঞ্জু স্যামসনও। ম্যাচের পরে অধিনায়ক সূর্য বলেন, ‘‘আমরা এ দিন ইচ্ছে করেই পাঁচ বোলারে খেলতে চেয়েছি। পরীক্ষার মুখে ফেলতে চেয়েছিলাম দলকে।’’
তিনি এও বলেন, ‘‘প্রথমে ব্যাট করে আমরা ভাল খেলছিলাম। কিন্তু দেখতে চেয়েছিলাম ১৮০-২০০ রান তাড়া করার ক্ষেত্রে কী হয়। এ দিন আর একটা জুটি হলে ম্যাচটা বার করে নেওয়া যেত।’’ কোথায় পার্থক্য হয়ে গেল? ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সুনীল গাওস্কর বলেন, ‘‘দুই ইনিংসের পাওয়ার প্লে-তে নিউ জ়িল্যান্ড এগিয়ে ছিল ভারতের থেকে। ব্যাট হাতে যেমন, বল হাতেও সে রকম। ওখানেই নিউ জ়িল্যান্ড এগিয়ে যায় অনেকটা।’’ ব্যাট করতে নেমে প্রথমে ছ’ওভারে নিউ জ়িল্যান্ড তোলে বিনা উইকেটে ৭১। আবার ভারতকে আটকে রাখে দু’উইকেটে ৫৩-২ স্কোরে। সেই ধাক্কা এ দিন সামলাতে পারল না ভারত।