প্রচণ্ড দাবদাহে ঘামে ভেজা শরীর অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হলেও, যৌন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালের তুলনায় ঘামে ভেজা শরীরে যৌন মিলন (Intimacy) অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এর পেছনে কাজ করে শরীরের জটিল কিছু হরমোন ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মেলাটোনিন ও কামোচ্ছ্বাস:
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোদ যত চড়া হয়, মানুষের মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ তত কমে। মেলাটোনিন কমলে শরীরে যৌন হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বেড়ে যায়, যা মিলনের ইচ্ছাকে প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। গরমে ঘাম আর শরীরের প্রাকৃতিক উষ্ণতা যৌন চাহিদাকে কেবল তীব্রই করে না, বরং মিলনকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
ঘাম ও ফেরোমেনের প্রভাব:
যৌন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের শরীরের ঘাম নারীর মধ্যে সঙ্গমের ইচ্ছা ও উত্তেজনাকে আরও প্রবল করে তোলে। ঘামের সাথে নিঃসৃত হওয়া প্রাকৃতিক রাসায়নিক বা ফেরোমেন বিপরীত লিঙ্গকে আকৃষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সময় পুরুষরা তাঁদের যৌনক্রিয়া অনেক বেশি দীর্ঘতর করতে সক্ষম হন।
ভিটামিন-ডি ও হরমোনের রসায়ন:
মার্কিন বিশেষজ্ঞ ডা. মারথা তারা লি তাঁর গবেষণা পত্রে জানিয়েছেন, সূর্যালোক থেকে পাওয়া ভিটামিন-ডি কেবল হাড় মজবুত করে না, এটি শক্তিশালী যৌনতাবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রাজ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের মতে, রক্তে ভিটামিন-ডি-র মাত্রা বাড়লে পুরুষদের শরীরে প্রধান যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন (Testosterone) নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে, মহিলাদের শরীরেও ইস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিকভাবে যৌন ক্ষুধা ও উদ্দীপনা তুঙ্গে নিয়ে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, গরমের অস্বস্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ঘাম ও রোদের প্রভাবে শরীরের হরমোনগুলো যেভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাতে এই আবহাওয়ায় মিলনের তৃপ্তি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই বিছানায় নতুন উন্মাদনা পেতে ঘাম ভেজা শরীরেই সঙ্গীকে কাছে টেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।