বর্তমান ইঁদুর দৌড়ের যুগে সময় বের করাটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপের কারণে আমরা সবথেকে প্রিয় মানুষটিকেই পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি না। এই সময়ের অভাবই ধীরে ধীরে দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কের (Relationship) মাঝে এক অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দেয়, বাড়তে থাকে মানসিক দূরত্ব। তবে মনে রাখবেন, সঙ্গীর সাথে ভালো সময় বা ‘কোয়ালিটি টাইম’ কাটানোর জন্য সবসময় দামি রেস্তোরাঁ কিংবা বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হয় না। সামান্য কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপেই সম্পর্কের হারানো ছন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বাড়িতে বা কাছাকাছি থেকেও কীভাবে প্রিয়জনের সাথে সুন্দর মুহূর্ত কাটাবেন, তার ৫টি অব্যর্থ উপায় নিচে দেওয়া হলো:
১. দু’জনের একান্ত পিকনিক: পিকনিক মানেই অনেক লোক বা এলাহি আয়োজন নয়। ছুটির দিনে সামান্য কিছু খাবার প্যাক করে নিয়ে দুজনে বেরিয়ে পড়ুন। বাড়ির কাছের কোনো নির্জন পার্ক বা লেকের ধারে মাদুর বিছিয়ে বসে পড়ুন। মোবাইল ফোন দূরে রেখে একে অপরের কথা শুনুন, পছন্দের গান চালান। প্রকৃতির মাঝে এই নিভৃত সময় আপনাদের সম্পর্ককে নতুন করে তরতাজা করে তুলবে।
২. ঘরোয়া মুভি ডেট: মুভি ডেট মানেই সিনেমা হলের ভিড় নয়। বরং বাড়ির টিভিতেই পছন্দের কোনো সিনেমা বা সিরিজ চালিয়ে নিন। ঘরের আলো কমিয়ে মোমবাতি বা মৃদু আলো জ্বালান, সাথে রাখুন পপকর্ন বা পছন্দের স্ন্যাকস। ভিড়ের থেকে দূরে ঘরের আরামদায়ক পরিবেশে এই সময়টুকু আপনাদের আরও কাছাকাছি আনবে।
৩. একসাথে রান্নাবান্না: রান্নাঘর কেবল কাজের জায়গা নয়, এটি হতে পারে মান-অভিমান মেটানোর জায়গাও। দুজনে মিলে কোনো বিশেষ পদ রান্নার পরিকল্পনা করুন। সবজি কাটা থেকে মশলা দেওয়া—সবটা একসাথে করলে কাজের চাপ যেমন কমে, তেমনই বাড়ে পারস্পরিক সখ্যতা ও বোঝাপড়া।
৪. বিকেলের নিভৃত পথচলা: বিকেলের স্নিগ্ধ আলোয় হাতে হাত রেখে হাঁটতে বের হওয়া এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। কোনো শান্ত, নিরিবিলি রাস্তা দিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটুন। প্রকৃতির মাঝে হাঁটতে হাঁটতে মনের জমে থাকা ছোট ছোট কথাগুলো ভাগ করে নিন।
৫. চিঠিতে মনের কথা: প্রযুক্তির যুগে আমরা মেসেজ করতে অভ্যস্ত, কিন্তু হাতে লেখা চিঠির আবেদন আজও অমলিন। মুখে যা বলতে পারছেন না, তা চিঠিতে লিখে সঙ্গীকে জানান। এই ছোট প্রচেষ্টাটুকু সম্পর্কের পুরনো উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করবে।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা। ব্যস্ততাকে অজুহাত না করে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিলেই দেখবেন কর্মজীবনের ক্লান্তি আপনার ব্যক্তিগত জীবনে থাবা বসাতে পারছে না।