যৌনতা (Intimacy) মানে কি শুধুই দুটি নগ্ন শরীরের খেলা? কামনার আগুনে শুধু শরীরীভাবে লিপ্ত হলেই চরম তৃপ্তি পাওয়া যায়—এমন ধারণা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল। শাসনের গণ্ডিতে আবদ্ধ আমাদের সমাজে সঠিক যৌনশিক্ষার অভাবে অনেকের মধ্যেই সঙ্গম নিয়ে নানাবিধ ভ্রান্ত ধারণা থেকে যায়। সিনেমা বা টেলিভিশনের পর্দায় দেখা দৃশ্য অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে আলাদা হয়। তাই যৌন জীবনের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে হলে এই বিষয়টির সঠিক পাঠ এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রথমত, গর্ভপাত বা যৌনরোগ এড়াতে কন্ডোমের ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। অনেকে অতি সতর্ক হতে গিয়ে একসাথে দুটি কন্ডোম ব্যবহার করেন, যা হিতে বিপরীত হতে পারে। দুটি কন্ডোমের পারস্পরিক ঘর্ষণে সেটি ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আবার অনেকে মনে করেন বীর্যপাতের ঠিক আগে পুরুষাঙ্গ বের করে নিলেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঝুঁকি থাকে না—এটি একটি বড় ভুল ধারণা। অনিরাপদ মিলনে কেবল গর্ভধারণ নয়, যৌনরোগ ছড়ানোর ভয়ও থাকে, তাই নিরোধ বা কন্ডোম ব্যবহারই সবচেয়ে নিরাপদ।
হস্তমৈথুন নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণাগুলোও সংশোধন করা দরকার। অনেকে ভাবেন এটি কেবল পুরুষদের বিষয়, কিন্তু নারী শরীরেও যৌনতার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং তাঁরাও মৈথুনে সক্ষম। আধুনিক যুগে অনলাইন ও অফলাইনে নানা উপকরণের সহজলভ্যতা এই চাহিদাকে আরও সহজ করেছে। এছাড়া বয়ঃসন্ধিকালে প্রথমবার ইরেকশন বা লিঙ্গোত্থান হলে অনেক কিশোর ভয় পেয়ে যায়। সঠিক যৌনশিক্ষা থাকলে তারা জানত যে এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া।
সবচেয়ে সংবেদনশীল ভ্রান্তিটি হলো নারীর সতীত্ব বা ‘ভার্জিনিটি’ নিয়ে। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, প্রথমবার মিলনের সময় নারীর যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হবেই। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সবসময় এমনটা নাও হতে পারে। সাইকেল চালানো, খেলাধুলা বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কারণেও সতীচ্ছদ বা হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে। তাই রক্তপাত দিয়ে সতীত্ব বিচার করা কেবল ভুল নয়, বরং অযৌক্তিক। সামগ্রিকভাবে, যৌনতা নিয়ে এই মানসিক জড়তা ও ভুল ধারণাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে শারীরিক সম্পর্ক কেবল যান্ত্রিক প্রক্রিয়া না হয়ে মনের গভীর তৃপ্তির কারণ হয়ে উঠবে।