স্বমৈথুন বা হস্তমৈথুনের (Musterbation) ক্ষেত্রে কৃত্রিম সেক্স টয়ের বিকল্প হিসেবে গাজর, কলা, শশা বা লেবুর মতো ফল ও সবজি ব্যবহারের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। আধুনিক যুগে উন্নত সেক্স টয় সহজলভ্য হলেও, সামাজিক ট্যাবু বা গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে অনেক নারী, বিশেষ করে কিশোরীরা এখনও এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিকেই নিরাপদ মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও যৌন বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ফল বা সবজি ব্যবহারের নেপথ্যে ধারণা ও বাস্তবতা:
আমাদের সমাজে যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ কম থাকায় অনেকেই ভুল তথ্যের শিকার হন। অনেকের ধারণা, প্রাকৃতিক ফল বা সবজি প্লাস্টিক বা সিলিকনের তৈরি সেক্স টয়ের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসম্মত বা ‘হাইজিনিক’। আবার অনেকের ক্ষেত্রে দোকান থেকে সেক্স টয় কেনা অস্বস্তিকর বা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এই বাধ্যবাধকতা থেকেই তাঁরা রান্নাঘরের সাধারণ সবজি বা ফলকে যৌন তৃপ্তির মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের মত:
চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসটি মোটেও নিরাপদ নয়। ফল বা সবজি ব্যবহারের ফলে প্রধানত যেসব সমস্যা হতে পারে তা হলো:
১. সংক্রমণ বা ইনফেকশন: ফল বা সবজির গায়ে লেগে থাকা প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক বা সারের অবশিষ্টাংশ সরাসরি যৌনাঙ্গের সংস্পর্শে এসে মারাত্মক সংক্রমণের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যোনিদ্বারের পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
২. ক্ষত ও রক্তপাত: ফল বা সবজির গঠন অনেক সময় অমসৃণ হতে পারে। এর ফলে গোপনাঙ্গের নরম টিস্যু বা ঝিল্লিতে সূক্ষ্ম ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীকালে বড় ধরনের ঘা বা যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. গুরুতর রোগ ও ক্যানসার: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের অনিরাপদ অভ্যাসের ফলে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ হতে পারে, যা থেকে ভবিষ্যতে যৌনাঙ্গে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
৪. ভঙ্গুরতা: সবজি বা ফলের কোনো অংশ ভেতরে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা বের করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
যৌন তৃপ্তি স্বাভাবিক বিষয় হলেও স্বাস্থ্যের বিনিময়ে তা কাম্য নয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিরাপদ যৌনতার জন্য মানসম্মত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি সেক্স টয় ব্যবহার করা উচিত। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে শরীরী সুরক্ষার খাতিরে ফল বা সবজির ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাই শ্রেয়।