বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

ঘুমের সময় আপনার হৃদপিণ্ড কি সুরক্ষিত?

হার্ট ফেলিওর (Heart failure) বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কেবল বয়স্কদের নয়, যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন্ত চট্টোপাধ্যায় হার্ট ফেলিওরের কারণ, লক্ষণ এবং এর প্রতিকার নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হার্ট ফেলিওর আসলে কী?

হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরের ‘জেনারেটর’, যার প্রধান কাজ প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেওয়া। যখন হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক চাপ ও গতিতে পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হয়, তখনই তাকে হার্ট ফেলিওর বলা হয়। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং একটি ‘স্পেকট্রাম’, যার প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

শারীরিক প্রভাব ও উপসর্গ

হার্ট যখন সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন শরীরে দু’ধরনের সমস্যা দেখা দেয়:

১. পিছনের চাপ (Backward Pressure): ফুসফুসের শিরাতন্ত্রে রক্ত জমা হতে শুরু করে, যা থেকে শ্বাসকষ্ট হয়। পরবর্তীতে হাত-পা ফুলে যাওয়া, লিভারে জল জমে পেট ফুলে ওঠা, খিদে কমে যাওয়া এবং পেটে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

২. সামনের চাপ (Forward Pressure): মস্তিষ্ক, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে মাথা ঝিমঝিম করা, কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ প্রকট হয়।

হার্ট ফেলিওরের প্রকারভেদ

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে মূলত দু’ভাগে ভাগ করা হয়:

  • HFrEF: যেখানে হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা সরাসরি কমে যায়। এটি সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

  • HFpEF: যেখানে পাম্পিং ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে হৃদপিণ্ড কার্যক্ষমতা হারায়। এটি ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

ঝুঁকি ও প্রতিরোধ

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা এবং ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ডা. চট্টোপাধ্যায়ের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ঠিক পরেই চিকিৎসা শুরু করলে হার্ট ফেলিওরের জটিলতা অনেকটা কমানো সম্ভব।

সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অপরিহার্য। মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে একটি দুর্বল হৃদপিণ্ডকে সচল রেখে জীবনকে দীর্ঘায়ু করতে।

You cannot copy content of this page