শীতকাল এলেই জমে ওঠে বিয়ের মরশুম, আর তার সঙ্গে বাড়ে পোশাক নির্বাচনের দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে মহিলাদের মনে প্রশ্ন, কী পরবেন, তার সঙ্গে চাদর বা শাল মানাবে কি না, ঠান্ডা সামলানো যাবে তো? কিন্তু এমন কোনও পোশাক যদি থাকে, যেখানে শীতে বাড়তি আবরণ নিতে না হয় এবং নিজস্ব নকশাতেই উষ্ণতার ব্যবস্থা থাকে—তাহলে তো চিন্তা দূর হবেই। সম্প্রতি এমনই এক পোশাকে বিয়ের আসরে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কঙ্গনা বরাবরই তাঁর সাজে ভারতীয় ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আত্মীয়ের বিয়েতে তিনি পরেছিলেন লাদাখের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘গোঞ্চা’। রঙিন ও নান্দনিক এই পোশাক বর্তমানে ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জানা গেছে, ‘গোঞ্চা’ বা ‘কোস/সুলেমান’ নামে পরিচিত এই পোশাক মূলত লাদাখের কঠোর আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তৈরি হয়। বহু প্রাচীনকাল থেকে উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে লাদাখের মহিলারা পরে আসছেন এই উষ্ণ লম্বা পোশাক।
গোঞ্চার মূল বৈশিষ্ট্য এর গঠন—পশম দিয়ে তৈরি লম্বা পোশাক, যার সঙ্গে একপাশে গা ঢেকে রাখা রঙিন ওড়না থাকে। স্কার্ট-ব্লাউজের ওপরেও এটি পরা যায়, আবার মোগোস গাউনের সঙ্গে ব্যবহার করা যায় আলাদা রঙিন কাপড়ের মাধ্যমে। শীত প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর। ফলে বিয়েবাড়িতে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে গোঞ্চা হতে পারে এক অনন্য বিকল্প।
তবে আবহাওয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী এর ম্যাটেরিয়ালে পরিবর্তন আনা যায়। পশমের বদলে বেনারসি বা চান্দেরি কাপড় দিয়ে তৈরি গোঞ্চাও বেশ আকর্ষণীয় হয়। এতে যেমন ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে, তেমন রঙিন কাপড় ও আধুনিক কাটে পুরো পোশাক হয়ে ওঠে স্টাইলিশ। ভিনরাজ্যের সাংস্কৃতিক পোশাকে বিয়েবাড়িতে হাজির হলে আপনি সহজেই হয়ে উঠতে পারেন সবার দৃষ্টি-আকর্ষণের কেন্দ্র।
ফ্যাশনে কঙ্গনার নিজস্ব রুচি সবসময়ই আলাদা নজর কাড়ে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর নিয়মিত পোশাকে শাড়ি, হ্যান্ডলুম কিংবা হিমাচল প্রদেশের আঞ্চলিক পোশাককেই বেশি দেখা গেছে। সংসদে সাধারণত প্যাস্টেল রঙের সুতি বা হ্যান্ডলুম শাড়ি পরতে তিনি পছন্দ করেন। কখনও সিল্কের কোমল আভা, কখনও আবার সাদামাটা বুননে দেখা মেলে তাঁর নান্দনিকতা।
এবার সেই ধারায় আরও নতুনত্ব যোগ করলেন তিনি লাদাখি গোঞ্চা পরে। ট্র্যাডিশনাল পোশাকেই বিয়েবাড়িতে বাজিমাত করেছেন কঙ্গনা, আর শীতের সাজে নতুন দিশাও দেখালেন ফ্যাশনপ্রেমীদের।